সংবিধান সংশোধন কমিটি বয়কট করেছে ১১ দল ও এনসিপি: আখতার হোসেন
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলীয় ঐক্য। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই কমিটি বয়কট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাত ২৩টা ২৩ মিনিটে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-টু-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, কোনো ধরনের সংকটে যেন পড়তে না হয়, সেজন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি সরকারের এই সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনসিপি ও ১১ দলীয় ঐক্য যৌথভাবে এই কমিটিকে বয়কট করেছে।
বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বিএনপি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার পরিবর্তে কথিত সংবিধান সংশোধনের দিকে এগোচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে কেবল সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি গুরুতর সাংবিধানিক সংকটে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভোটাভুটি ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপি নেতা বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের রায়। এ দেশের মানুষ গণভোটে তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে সংবিধানে কীভাবে পরিবর্তন আনা উচিত। তাই সংবিধান সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে নেওয়া প্রয়োজন।
রংপুর অঞ্চলের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ এনে আখতার হোসেন বলেন, সরকার একদিকে রংপুরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিচ্ছে না, অন্যদিকে বরাদ্দের নামে বৈষম্য সৃষ্টি করে তার পক্ষে সাফাই গাইছে। রংপুরের মানুষ বিরোধী দলকে ভোট দেয় বলে তাদের উন্নয়ন বঞ্চিত রাখা হবে—এমন আচরণ কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক হতে পারে না। ভিন্নমত থাকবে এবং মানুষ সরকারি বা বিরোধী যেকোনো দলকেই ভোট দিতে পারে, কিন্তু বাজেট বরাদ্দে বৈষম্য করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সুরক্ষায় যদি আবারও রাজপথে নামতে হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।





























