ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়নামতিতে পলি নেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সফল স্থানীয় কৃষকরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির সমেষপুর গ্রাম এখন সারা দেশে চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রামের কৃষকরা এখন প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে গ্রিনহাউসের আদলে পলি নেট পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে সবজি চারা উৎপাদন করছেন। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। সমেষপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ একরেরও বেশি জমিতে এই চারা উৎপাদনের কাজ চলছে। প্রতিটি ১২ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট প্রশস্ত বিটে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার চারা উৎপাদন করা হয় এবং গ্রামে এমন হাজার হাজার বিট রয়েছে। বর্তমানে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রতি মৌসুমে এই এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কোটি চারা বিক্রি হয়। তবে মাটিতে সরাসরি চারা উৎপাদনের তুলনায় এই নতুন পদ্ধতিটি বেশ ব্যয়বহুল। বাঁশ, পলিথিন ও কাঠের কাঠামোয় প্রতিটি শেড নির্মাণে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া একটি ট্রেতে ১২৮ থেকে ১৩০টি চারা উৎপাদিত হয়। বর্তমানে সমেষপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় প্রায় ৬০টি পলি নেট শেড রয়েছে, যেখান থেকে এ বছর ১২ লক্ষাধিক চারা বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাজারে মাটির চারার চেয়ে কোকোপিট চারার দাম কিছুটা বেশি। বর্তমানে জাতভেদে প্রতিটি ফুলকপি দেড় থেকে তিন টাকা, বাঁধাকপি দেড় থেকে দুই টাকা, মরিচ আড়াই থেকে তিন টাকা, টমেটো আড়াই থেকে তিন টাকা, বেগুন আড়াই থেকে তিন টাকা এবং লাউ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রবাস ফেরত তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বি এবং তার বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, আগে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ঝড়ের কারণে জমিতে চারা নষ্ট হতো এবং রোগাক্রান্ত চারা বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। পলি নেট ও কোকোপিট পদ্ধতিতে সেই ঝুঁকি নেই এবং সারা বছর একইভাবে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা সম্ভব। তবে কৃষকদের আক্ষেপ, উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে লাভের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিডি মিজানুর রহমান জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া আপাতত তাদের আর কিছু করার নেই।

এখানে প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০-১২ কোটি চারা বিক্রয় হচ্ছে বলে জানা যায়। জমিতে চারা উৎপাদন অপেক্ষাকৃত কম খরচ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা অনেক সময় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েও দাঁড়ায়। আর এসব চিন্তা করে অতি সম্প্রতি সমেষপুর এলাকায় প্রবাস ফেরত যুবক হোসাইন রাব্বি অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে পলিনেট পদ্ধত

আনোয়ার হোসেন আরো জানান, এই পদ্ধতিতে উৎপাদন বেশ ব্যয়বহুল। বাঁশ, পলিথিনসহ কাঠের ব্যবহারে প্রতিটি শেড নির্মাণে কমপক্ষে ১৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তারা আরো জানান, একটি ট্রেতে ১২৮-১৩০টি চারা উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে সমেষপুর, সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় পলিনেট পদ্ধতিতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করছে এমন প্রায় ৬০টি পলিনেট রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়নামতিতে পলি নেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সফল স্থানীয় কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির সমেষপুর গ্রাম এখন সারা দেশে চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রামের কৃষকরা এখন প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে গ্রিনহাউসের আদলে পলি নেট পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে সবজি চারা উৎপাদন করছেন। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। সমেষপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ একরেরও বেশি জমিতে এই চারা উৎপাদনের কাজ চলছে। প্রতিটি ১২ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট প্রশস্ত বিটে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার চারা উৎপাদন করা হয় এবং গ্রামে এমন হাজার হাজার বিট রয়েছে। বর্তমানে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

প্রতি মৌসুমে এই এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কোটি চারা বিক্রি হয়। তবে মাটিতে সরাসরি চারা উৎপাদনের তুলনায় এই নতুন পদ্ধতিটি বেশ ব্যয়বহুল। বাঁশ, পলিথিন ও কাঠের কাঠামোয় প্রতিটি শেড নির্মাণে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া একটি ট্রেতে ১২৮ থেকে ১৩০টি চারা উৎপাদিত হয়। বর্তমানে সমেষপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় প্রায় ৬০টি পলি নেট শেড রয়েছে, যেখান থেকে এ বছর ১২ লক্ষাধিক চারা বিক্রির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাজারে মাটির চারার চেয়ে কোকোপিট চারার দাম কিছুটা বেশি। বর্তমানে জাতভেদে প্রতিটি ফুলকপি দেড় থেকে তিন টাকা, বাঁধাকপি দেড় থেকে দুই টাকা, মরিচ আড়াই থেকে তিন টাকা, টমেটো আড়াই থেকে তিন টাকা, বেগুন আড়াই থেকে তিন টাকা এবং লাউ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রবাস ফেরত তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রাব্বি এবং তার বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, আগে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ঝড়ের কারণে জমিতে চারা নষ্ট হতো এবং রোগাক্রান্ত চারা বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। পলি নেট ও কোকোপিট পদ্ধতিতে সেই ঝুঁকি নেই এবং সারা বছর একইভাবে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা সম্ভব। তবে কৃষকদের আক্ষেপ, উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে লাভের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিডি মিজানুর রহমান জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া আপাতত তাদের আর কিছু করার নেই।

এখানে প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০-১২ কোটি চারা বিক্রয় হচ্ছে বলে জানা যায়। জমিতে চারা উৎপাদন অপেক্ষাকৃত কম খরচ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা অনেক সময় কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েও দাঁড়ায়। আর এসব চিন্তা করে অতি সম্প্রতি সমেষপুর এলাকায় প্রবাস ফেরত যুবক হোসাইন রাব্বি অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে পলিনেট পদ্ধত

আনোয়ার হোসেন আরো জানান, এই পদ্ধতিতে উৎপাদন বেশ ব্যয়বহুল। বাঁশ, পলিথিনসহ কাঠের ব্যবহারে প্রতিটি শেড নির্মাণে কমপক্ষে ১৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তারা আরো জানান, একটি ট্রেতে ১২৮-১৩০টি চারা উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে সমেষপুর, সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় পলিনেট পদ্ধতিতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করছে এমন প্রায় ৬০টি পলিনেট রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh