শিক্ষিকা রনজিলা হত্যা: র্যাবের গ্রেপ্তার তিনজনের সম্পৃক্ততা নেই, দাবি ডিবির
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিন ব্যক্তির এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিবি জানায়, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর নতুন করে মো. খোকন ও রাজীব মাতুব্বর নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, র্যাবের হাতে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। এছাড়া র্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, তা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে মেলে না; উভয়ের রঙের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ডিবির ভাষ্যমতে, নতুন গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। খোকন মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ভুক্তভোগীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের সময় হ্যাঁচকা টান দিয়েছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ থেকে রনজিলা পারভীনের ব্যাগ এবং মিরপুর-১ থেকে তার মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চালক রাজীব মাতুব্বরকে সাভারের বিরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। রাজীবের হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবা বড়িও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীর স্বামীর বরাত দিয়ে ডিবি কর্মকর্তা জানান, স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে এক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন এবং ব্যাগ টান দেওয়ার সময় মাথা ঘোরানোয় ছিনতাইকারী ও পেছনে থাকা খোকনকে তিনি স্পষ্ট চিনতে পেরেছেন। র্যাবের হাতে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিবির কর্মকর্তা জানান, তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেই আইনি প্রক্রিয়া চলবে, তবে রনজিলা হত্যা মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে তাদের বাদ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, তারা সন্দেহভাজন হিসেবেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং তদন্তের খাতিরেই তাদের আটকে রাখা হয়েছিল। এর আগে ২৯ আগস্ট সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুরবাগানের মুখে রিকশায় ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে রনজিলা পারভীন রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।





























