দেড় বছর আগে সিট বাতিল হলেও রাবির হলে থাকছেন ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে নিয়মিত পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার। প্রায় দেড় বছর আগে তার সিট বাতিল করা হলেও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এখনো হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হল প্রশাসন তাকে চারবার চেষ্টা করেও হল থেকে নামাতে পারেনি বলে জানা গেছে।
সবুজ শাহরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শামসুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগেই তার হলের সিট বাতিল করা হয়েছিল এবং তিনি চলেও গিয়েছিলেন। তবে গত চার-পাঁচ মাস ধরে তিনি আবারও অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হওয়ায় তাকে হল ছাড়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তিনি তা অমান্য করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সবুজ শাহরিয়ার বলেন, তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। তবে যে বিভাগে পড়াশোনা করেছেন, সেখানে ল্যাবে গবেষণার কাজ করতে অনেক সময় লাগে এবং প্রায়ই দেরি হয়। এই কারণে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে তার এক বন্ধুর রুমে বেড শেয়ার করে থাকছেন। ভালো কোনো বাসা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তিনি হল ছেড়ে চলে যাবেন। হলে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তিনি হল প্রভোস্টকে জানিয়েছেন এবং তার অনুমতি নিয়েই সেখানে অবস্থান করছেন।
তবে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আল-আমিন সরকার সবুজের এই দাবি অস্বীকার করে জানান, দেড় বছর আগেই তার সিট বাতিল করা হয়েছিল। মাঝে চলে গেলেও গত চার-পাঁচ মাস ধরে সে আবারও হলে থাকছে। বিসিএস পরীক্ষা সামনে থাকায় তাকে হলে থাকতে হবে বলে সে জানিয়েছিল। প্রভোস্ট বলেন, আমি এ পর্যন্ত তিন-চারবার তাকে হল ছেড়ে যেতে বলেছি, কিন্তু সে এখনো যায়নি। আমরা আগামীকাল তাকে আবারও অফিসিয়াল চিঠি দেব। এরপরও সে হল না ছাড়লে প্রক্টর দপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হবে। একটা বিষয়েরও তো শেষ আছে, এরপর আর সম্ভব নয়।
এদিকে হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের এমন অবৈধ অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সহসভাপতি (ভিপি) আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, রাকসু নির্বাচনের তিন-চার মাস পর থেকে সবুজ শাহরিয়ার নিয়মিত হলে থাকা শুরু করেন। তার ফলাফল হয়ে গেছে এবং শিক্ষাজীবনও শেষ হয়েছে, তাহলে তিনি কীভাবে হলে অবস্থান করছেন তা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কয়েকবার হল প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। হল প্রভোস্ট এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না।
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৭আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৯





























