ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কার কত সম্পদ বাজেয়াপ্ত হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগ ও এর নিষিদ্ধ ঘোষিত অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দণ্ডিতদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পত্তি জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। দণ্ডিতদের নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের বিপুল সম্পদের বিবরণ পাওয়া গেছে। তবে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁর হলফনামা পাওয়া যায়নি এবং সম্পদের হিসাবও মেলেনি।
২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে অংশ নেওয়া সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র রয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। এছাড়া তাঁর ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, ২৫ তোলা সোনা (যার মূল্য দেখানো হয়েছে দেড় লাখ টাকা), ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে কাদেরের রয়েছে ঢাকার উত্তরার ৫ কাঠা জমি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।
ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাঁর ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডে ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া তাঁর ৬০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি, সাড়ে ৩ লাখ টাকার ২৫ ভরি সোনা এবং সোয়া ১০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র রয়েছে। নাছিমের স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে, যার মোট মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা মূল্যের একটি ভবন এবং মিরপুরে ৪৫ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর।
ঢাকা-১৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে গুলশান-২ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট, যার মূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এছাড়া তাঁর অন্য কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে তাঁর ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের বড় অংশই রয়েছে শেয়ার বাজারে। ৯টি কোম্পানিতে তাঁর প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।
ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৬ একর কৃষিজমি (মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা), ৫৭.৫০ শতাংশ কৃষিজমি (মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা), ৩ কাঠার একটি অকৃষি প্লট (মূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার Rocco টাকা) এবং ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। নিখিলের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে নগদ ২৪ লাখ টাকা, ব্যাংকে ১ কোটি টাকার এফডিআর, নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা ও নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি মূল্যের তিনটি গাড়ি এবং প্রায় ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র রয়েছে তাঁর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন নেতা হলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলায় দণ্ডিত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের একই ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছিলেন। জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি কৃষিজমি ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যার মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।নিখিলের তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা।





























