রংপুরে মাদক মামলার আসামিকে বিদেশে পালাতে সহায়তার অভিযোগ ডিএনসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ২৯ (15-09-2026, 04:29)
রংপুরের মিঠাপুকুরে ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলার চার্জশিটে জালিয়াতি করে এক মাদক মামলার আসামিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের পিসিপিআরে (পুলিশ ক্রিডেনশিয়াল অ্যান্ড পারসোনাল রেকর্ড) ক্লিয়ারেন্স পাইয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক দিলারা রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদুল ইসলাম সরদার। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী মুশফিকুর জানান, মিঠাপুকুরের বালুচর কাশিনাথপুর এলাকার হাতিমপুর গ্রামের মাদক কারবারি মোরছালিন মিয়াকে (৩২) বাঁচাতে এই কারসাজি করা হয়েছে। মোরছালিন এলাকায় মাদক ব্যবসা করে বিশাল বাড়ি, কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৮ জুলাই ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোজাফফর হোসেন শাহের নেতৃত্বে মিঠাপুকুরের রানীপুকুর জুমা খানপাড়া এলাকার খালেদ খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে খালেদের স্ত্রী নাজমা বেগম (২৬) গ্রেপ্তার হলেও কৌশলে পালিয়ে যান খালেদ ও মোরছালিন। এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ ছিল, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে খালেদের বাড়িতে মজুত করেছিলেন মোরছালিন।
কিন্তু তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে দেখা যায় চরম অসঙ্গতি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মেহেদুল ও উপপরিচালক দিলারার যোগসাজশে চার্জশিটের ৩ নম্বর কলামে অভিযুক্তদের নাম না দিয়ে, ২ নম্বর কলামে (যা আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার কলাম) মোরছালিন ও খালেদের নাম দেওয়া হয়। এর ফলে পুলিশের পিসিপিআরে মোরছালিনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত দেখানো হয়, যা তাকে দেশত্যাগে সহায়তা করে। এছাড়া চার্জশিটে মোরছালিনের জীবিত পিতা আব্দুল লতিফকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই সুযোগে গত ২১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় সানজিলা মুনতাসির ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর লিমিটেডের মাধ্যমে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব পাড়ি জমান মোরছালিন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজিরার তারিখ থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি; ওমরাহ পালনের কারণ দেখিয়ে আদালতে সময় প্রার্থনা করা হয়েছে।
মিঠাপুকুর আমলি আদালতের সিএসআই এ এফ এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, চার্জশিটের ২ নম্বর কলামে নাম দিলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসামিকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত দেখায়। এর সম্পূর্ণ দায় চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তার। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলার সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু এই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মেহেদুল. তিনি দাবি করেন, এর আগে সিরাজগঞ্জেও তিনি এভাবে চার্জশিট দিয়েছেন এবং তদন্তে যা পেয়েছেন তাই উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে উপপরিচালক দিলারা রহমান জানান, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।





























