রৌমারীতে মেয়ে ও নাতিকে গুমের অভিযোগ বাবার, জামাতা পলাতক
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ০৭
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নিজের মেয়ে ও ১২ বছরের নাতিকে ‘গুম’ করার অভিযোগ তুলেছেন ফুল মিয়া নামের এক বাবা। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামাতা মমিনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মমিনুলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে থানায় এই অভিযোগ জমা দেন ফুল মিয়া। অভিযোগে মমিনুল ইসলাম ছাড়াও তার মা আয়শা বেগম, ভাই মুনজু মিয়া, আমিন ও ময়জাল হক, বোন মনোয়ারা বেগম এবং আত্মীয় ইছাহক আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১৬ বছর আগে উপজেলার পূর্ব ইছাকুড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে ফুলতি খাতুনের (৩০) সঙ্গে একই এলাকার মৃত আইজল মিয়ার ছেলে মমিনুলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ফুল মিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফুলতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন মমিনুল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে জামাতাকে দফায় দফায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও তাদের দাম্পত্য কলহের কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক বৈঠক ও সালিশ হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
প্রায় দেড় মাস আগে রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আর নির্যাতন না করার শর্তে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন মমিনুল। এরপর দম্পতিটি ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। তবে সেখানে যাওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার জিরানী বাজারের পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের কলোনি থেকে মমিনুল ফোনে ফুল মিয়াকে জানান যে, ফুলতি ও তার ছেলে ফরিদ বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। এই খবর পাওয়ার পর স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি।
ফুল মিয়ার অভিযোগ, মেয়ের খোঁজ নিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা উল্টো হুমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি ফুলতি ও ফরিদকে বাবার বাড়িতেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ফুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার মেয়েকে তারা পরিকল্পিতভাবে নিখোঁজ বা গুম করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন মেয়ের সন্ধান চাইলে উল্টো আমাদের মারধরের হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ে বেঁচে আছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কে আছি।"
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজ গৃহবধূ ও তার ছেলেকে উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























