ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ভয় থেকে মুক্তি চেয়ে মুক্ত পরিবেশে ফেরার আকুতি বাউলশিল্পী আবুল সরকারের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সমাজের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানে আয়োজিত হয়েছে প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানকে সামনে রেখে সকালে নাট্যশালার লবিতে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পর উদ্বোধনী ঘোষণা করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবির। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলো রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল পাটাতন এবং বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল ধারা এগিয়ে নিতে এই কনভেনশন অত্যন্ত জরুরি।

কনভেনশনে দেশের ৪৫টি জেলা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিগতভাবে অনেক শিল্পী অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন মাইশা সুলতানা, আবৃত্তি করেন দীপক সুমন এবং খাগড়াছড়ির ‘প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার কনভেনশনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার প্রবর্তিত নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ মে রাজধানীতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সূত্রপাত। তখন ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচির পালন করেছিল। এরপর ২০২৪ সালে ২০ জুলাই কারফিউ জারি করা হলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই মোর্চা প্রথম কারফিউ ভেঙে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ ও গানের মিছিল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই গানে গানে প্রতিবাদী শিল্পীরা রাজপথ দখল করেন এবং ২ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে দ্রোহযাত্রা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে মাজার ও ভাস্কর্য ভাঙা, মব-সন্ত্রাস এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

কারামুক্ত বাউলশিল্পী আবুল সরকার কনভেনশনে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তিনি নিজেকে মুক্ত মনে করতে পারছেন না। তিনি বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পান এবং স্বাধীনভাবে গান করার পরিবেশ পাচ্ছেন না। এই বন্দিত্ব ও ভয় থেকে মুক্তি চেয়ে তিনি সমাজে একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান এবং যারা তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাংস্কৃতিক লড়াই সব লড়াইয়ের ভিত্তি এবং প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে বৈষম্যবাদী ও সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রতিহত করতে হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান ধর্মীয় উগ্রবাদীদের রুখে দেওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহসের সঙ্গে সংগ্রামের আহ্বান জানান। দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও বক্তব্য দেন উনসত্তরের অভ্যুত্থানের নেত্রী দীপা দত্ত, লেখক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ভয় থেকে মুক্তি চেয়ে মুক্ত পরিবেশে ফেরার আকুতি বাউলশিল্পী আবুল সরকারের

আপডেট সময় : ১১:০২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমাজের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানে আয়োজিত হয়েছে প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জাতীয় কনভেনশন। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানকে সামনে রেখে সকালে নাট্যশালার লবিতে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পর উদ্বোধনী ঘোষণা করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক নূরুল কবির। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলো রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল পাটাতন এবং বর্তমান সময়ে প্রগতিশীল ধারা এগিয়ে নিতে এই কনভেনশন অত্যন্ত জরুরি।

কনভেনশনে দেশের ৪৫টি জেলা থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিগতভাবে অনেক শিল্পী অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন মাইশা সুলতানা, আবৃত্তি করেন দীপক সুমন এবং খাগড়াছড়ির ‘প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’ বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করে। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার কনভেনশনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার প্রবর্তিত নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৬ মে রাজধানীতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সূত্রপাত। তখন ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচির পালন করেছিল। এরপর ২০২৪ সালে ২০ জুলাই কারফিউ জারি করা হলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই মোর্চা প্রথম কারফিউ ভেঙে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ ও গানের মিছিল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাই গানে গানে প্রতিবাদী শিল্পীরা রাজপথ দখল করেন এবং ২ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে দ্রোহযাত্রা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও দেশে আইনের শাসনের পরিবর্তে মাজার ও ভাস্কর্য ভাঙা, মব-সন্ত্রাস এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

কারামুক্ত বাউলশিল্পী আবুল সরকার কনভেনশনে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তিনি নিজেকে মুক্ত মনে করতে পারছেন না। তিনি বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পান এবং স্বাধীনভাবে গান করার পরিবেশ পাচ্ছেন না। এই বন্দিত্ব ও ভয় থেকে মুক্তি চেয়ে তিনি সমাজে একটি মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান এবং যারা তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাংস্কৃতিক লড়াই সব লড়াইয়ের ভিত্তি এবং প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে বৈষম্যবাদী ও সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রতিহত করতে হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান ধর্মীয় উগ্রবাদীদের রুখে দেওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহসের সঙ্গে সংগ্রামের আহ্বান জানান। দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও বক্তব্য দেন উনসত্তরের অভ্যুত্থানের নেত্রী দীপা দত্ত, লেখক রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo