সীতাকুণ্ডে কদম রসুল বাজারে ভোররাতে আগুন, পুড়ে ছাই ৪০ দোকান
- আপডেট সময় : ০২:০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ০৪
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের কদম রসুল মাদ্রাসা বাজারে ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, ব্যবসার পুঁজি ও সঞ্চিত পণ্য পুড়ে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী। অনেকের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল এই দোকানগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত ৪টার দিকে যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ বাজারের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের ঘনবসতিপূর্ণ দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নিজেদের দোকানের শাটার ভেঙে মালামাল বের করার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে আগুন আশপাশের অন্যান্য দোকান ও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ভোর ৪টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দোকানগুলো কাছাকাছি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে বাজারের ছোট-বড় প্রায় ৪০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ধারদেনা করে বা নিজেদের জমানো টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, এই দোকানটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র ভরসা। চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মতো কোনো পুঁজি তার অবশিষ্ট নেই।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর বাজারের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজারে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন এবং নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন ও সংযোগ পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাতে দ্রুত প্রবেশ করতে পারে, সেই পথ সুগম রাখার দাবিও জানান তারা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি সাহায্য না পেলে এই বড় ধাক্কা কাটিয়ে উঠে পুনরায় ব্যবসা চালু করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।





























