জুলাই আন্দোলনে স্বামীর মৃত্যু, পরে মেয়ের আত্মহত্যা: আদালতে রুমা বেগমের জবানবন্দি
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বামী মো. জসিম উদ্দিনের মৃত্যু এবং পরবর্তীতে মেয়ের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ কান্নায় ভেঙে পড়েন রুমা বেগম। পটুয়াখালীর বাসিন্দা রুমা বেগম একজন গৃহিণী, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে এসেছিলেন। এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে রুমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন ঢাকায় একটি এনজিওর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁরা আদাবর থানার শেখেরটেকে ভাড়া থাকতেন। ১৯ জুলাই নামাজ পড়ার কথা বলে বেরিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর স্বামীর বুকে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বের হয়ে গেছে এবং ক্ষতস্থানে গজ দিয়ে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। জসিম উদ্দিন তাঁকে জানিয়েছিলেন, জুমার নামাজ শেষে মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাঁর ওপর গুলি চালায়। ২৯ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং ৩১ জুলাই মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
এই মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন—মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নাঈমুল হাসান রাসেল, মো. সাজ্জাদ হোসেন ও কে এম ফজলে রাব্বী। এছাড়া সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপ্লব কুমার সরকার ও রৌশানুল হক সৈকতসহ ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
নিজের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা উল্লেখ করে রুমা বেগম জানান, গত বছরের ১৭ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিতে ঢাকায় আসার সময় বড় মেয়েকে বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। পরদিন ১৮ মার্চ বড় মেয়ে বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এই ঘটনার পর মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করে। ২৬ এপ্রিল শেখেরটেকে তাঁদের ভাড়া বাসা থেকে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় করা মামলায় তিন কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং গত বছরের ২২ অক্টোবর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দুইজনকে ১৩ বছর এবং একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।




























