ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি নিয়োগ কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালীতে সেরা দশমিনার আরিফ ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশা বলে আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা সরকারি কলেজের ক্লাস রুটিন চেয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি পাঁচ জেলায় ছড়িয়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক মানুষ জাতিসংঘে এরদোয়ানের শান্তির আহ্বানে বিশ্ব বিবেকের প্রতিধ্বনি: এমিনি পার্বতীপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ মাদক কারবারি পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর নতুন নিয়ম, দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এমপি-মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান

আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি, ভাগ্য ফিরছে ২ কোটি মানুষের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চরের প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের ভাগ্য। এক সময়ের অনাবাদী ও অবহেলিত চরে এখন নতুন সবুজ বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ডিএই-এর তথ্যমতে, এই বিশাল চর অঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৭ হেক্টর জমি আবাদযোগ্য এবং প্রায় ১ লাখ ১,৮৯২ হেক্টর জমি পতিত রয়েছে। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি হলেও মৎস্য, পশুপালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ওপরও অনেকে নির্ভরশীল। দেশের মোট চরাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশই উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত, যার বড় অংশ কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ভোলা ও নোয়াখালী জেলায়। প্রতি বছর বন্যার পানিতে নতুন পলি জমায় এই অঞ্চলের মাটি প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত উর্বর হয়, যার ফলে কম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

তবে এই বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এতদিন চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন করা যায়নি। কৃষকদের সনাতন পদ্ধতি নির্ভরতা, উন্নত বীজের অভাব, সেচ সংকট, বেলে মাটির কম পানি ধারণক্ষমতা, কৃষিযন্ত্রের অপ্রতুলতা এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল।

এই সমস্যা দূর করতে প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সংকট মেটাতে এলএলপি সেট ও ক্যানভাস পাইপ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক উপায়ে চারা উৎপাদনের জন্য পলিসেইড হাউস এবং উচ্চমূল্যের সবজির জন্য পলিনেট হাউস তৈরি করা হয়েছে। মাটির গুণাগুণ বাড়াতে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি স্যান্ডবার পদ্ধতিতে সবজি চাষ এবং পচনশীল মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন খরচ কমিয়ে এনেছে। পরিবেশ রক্ষা ও নদীভাঙন রোধে ১ লাখ ৪০ হাজার তাল, নারিকেল, নিম ও জাম গাছ রোপণের পাশাপাশি ৮৫২টি ফলবাগান স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) মাসুদুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে ফসলের আবাদী এলাকা ও শস্য বিন্যাস ৫ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং ১২টি ফসলের আধুনিক জাতের প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের দেওয়া এলএলপি সেট ও ক্যানভাস পাইপের মাধ্যমে ১,০০০ ফুট দূর থেকেও সেচ দেওয়া সম্ভব। চারা উৎপাদন সহজ করতে প্রকল্পভুক্ত উপজেলায় ৫ শতকের ১২১টি এবং জেলা পর্যায়ে উচ্চমূল্যের ফসলের জন্য ১০ শতকের ১৫টি পলি শেড হাউস নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ট্রে ও কোকো পিটের মাধ্যমে মানসম্মত চারা তৈরি হচ্ছে।

মাসুদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অনাবাদী চরের বালু জমিতে ফসল ফলাতে ‘স্যান্ডবার টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জাজিরায় ২০০ বিঘা বালু জমিতে এই প্রযুক্তিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চরের কোনো জমি আর পতিত থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি, ভাগ্য ফিরছে ২ কোটি মানুষের

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চরের প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের ভাগ্য। এক সময়ের অনাবাদী ও অবহেলিত চরে এখন নতুন সবুজ বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ডিএই-এর তথ্যমতে, এই বিশাল চর অঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৭ হেক্টর জমি আবাদযোগ্য এবং প্রায় ১ লাখ ১,৮৯২ হেক্টর জমি পতিত রয়েছে। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি হলেও মৎস্য, পশুপালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ওপরও অনেকে নির্ভরশীল। দেশের মোট চরাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশই উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত, যার বড় অংশ কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ভোলা ও নোয়াখালী জেলায়। প্রতি বছর বন্যার পানিতে নতুন পলি জমায় এই অঞ্চলের মাটি প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত উর্বর হয়, যার ফলে কম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

তবে এই বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এতদিন চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন করা যায়নি। কৃষকদের সনাতন পদ্ধতি নির্ভরতা, উন্নত বীজের অভাব, সেচ সংকট, বেলে মাটির কম পানি ধারণক্ষমতা, কৃষিযন্ত্রের অপ্রতুলতা এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল।

এই সমস্যা দূর করতে প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সংকট মেটাতে এলএলপি সেট ও ক্যানভাস পাইপ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক উপায়ে চারা উৎপাদনের জন্য পলিসেইড হাউস এবং উচ্চমূল্যের সবজির জন্য পলিনেট হাউস তৈরি করা হয়েছে। মাটির গুণাগুণ বাড়াতে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি স্যান্ডবার পদ্ধতিতে সবজি চাষ এবং পচনশীল মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন খরচ কমিয়ে এনেছে। পরিবেশ রক্ষা ও নদীভাঙন রোধে ১ লাখ ৪০ হাজার তাল, নারিকেল, নিম ও জাম গাছ রোপণের পাশাপাশি ৮৫২টি ফলবাগান স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) মাসুদুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে ফসলের আবাদী এলাকা ও শস্য বিন্যাস ৫ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং ১২টি ফসলের আধুনিক জাতের প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের দেওয়া এলএলপি সেট ও ক্যানভাস পাইপের মাধ্যমে ১,০০০ ফুট দূর থেকেও সেচ দেওয়া সম্ভব। চারা উৎপাদন সহজ করতে প্রকল্পভুক্ত উপজেলায় ৫ শতকের ১২১টি এবং জেলা পর্যায়ে উচ্চমূল্যের ফসলের জন্য ১০ শতকের ১৫টি পলি শেড হাউস নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ট্রে ও কোকো পিটের মাধ্যমে মানসম্মত চারা তৈরি হচ্ছে।

মাসুদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অনাবাদী চরের বালু জমিতে ফসল ফলাতে ‘স্যান্ডবার টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, জাজিরায় ২০০ বিঘা বালু জমিতে এই প্রযুক্তিতে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চরের কোনো জমি আর পতিত থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh