তিন বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী জানান, বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২০টি কারখানা রয়েছে। বর্তমানে এসব বন্ধ কারখানার নাম সংগ্রহের কাজ চলমান আছে।
পোশাক কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে গত ২২ জুন বিজিএমইএ প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে মন্ত্রী আটটি পয়েন্ট তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা, আন্তর্জাতিক মন্দা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি। এছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পোশাকশিল্পের বাজার ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শীঘ্রই স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হবে। এতে ট্রেডিং স্কিমের আওতায় অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা হারানোর ফলে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সঙ্গেও নতুন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ হাজার ৫০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বিপরীতে চলতি বছরের জুলাই মাসে ৩ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ভোজ্যতেলের চাহিদার বিষয়ে সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বার্ষিক ২২ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি নির্ভর।
পান রপ্তানি প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আবদুল গফুরকে মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলারের পান লেবানন, ওমান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে জামায়াতের এমপি আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিসংখ্যানও সংসদে উপস্থাপন করেন।
অন্যান্য প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার আমদানি নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদনের যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তির ফলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির এমপি লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।



























