শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ আটকে গেল শিক্ষার্থীর
- আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার অভিযোগে সনদপত্র আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের লিখিত অভিযোগ করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন।
ঘটনার সূত্রপাত ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদন মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে। ওই শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা মুজিবুর রহমান সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ২ দশমিক ৫০ পেয়েছিলেন। ফলাফল প্রকাশের পর তিনি শিক্ষককে হোয়াটসঅ্যাপে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান। সেই বার্তার উত্তরে শিক্ষক অভিনন্দন জানালে মুজিবুর রহমান তাতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। শিক্ষক মাশিয়াত যাহিনের দাবি, এটি কেবল রিঅ্যাক্ট দেওয়ার বিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আচরণ ও ইন্টার্নশিপে তার অনাগ্রহের বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই অভিযোগটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, বরং শিক্ষক হিসেবে আত্মসম্মানের জায়গা থেকে করা হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেহের নিগারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে এই লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের পর গত রোববার মুজিবুর রহমান সনদ তুলতে গেলে তাকে তা দেওয়া হয়নি। বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মেহের নিগার জানান, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সনদ দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, বিষয়টি উপাচার্যের পরামর্শে সহ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সনদ আটকে রাখা হয়নি, বরং অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তি হলে শিক্ষার্থী অবশ্যই সনদ তুলতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরীও জানিয়েছেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সাময়িকভাবে সনদ স্থগিত রাখা যায়।
এদিকে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি ইন্টার্নশিপে কম নম্বর পাওয়ার কারণে হতাশ ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টের জন্য এভাবে সনদ আটকে রাখা যায় কি না। তার মতে, ইন্টার্নশিপে বেশি নম্বর পেলে তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৪ থেকে আরও ভালো অবস্থানে থাকত।





























