বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২৫
- আপডেট সময় : ০২:৫০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন জানান, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন এবং গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) জিহাদ গ্রুপের সোলায়মান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারে হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ তাকে উদ্ধার করতে গেলে তিনিও হামলার কবলে পড়েন এবং রক্তাক্ত জখম হন। এই হামলায় আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও নটখোলা গ্রামের তারা মিয়ার লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই জের ধরে রোববার বিকেলে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একটি পক্ষ এবং মান্নান মাতুব্বর গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধুলজোড়া ব্রিজের কাছে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে কবির মোল্যা, কামরুল মোল্যা ও লোকমান মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংঘর্ষে নেতৃত্বদানকারী উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





























