সনদ চাইবেন অথচ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন না, এটি বিপরীতমুখী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বিরোধী দলের দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, একদিকে তারা জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সবকিছু দাবি করছেন, অন্যদিকে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছেন না। এই দুটি অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
সংসদে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি আশাবাদী ছিলেন যে বিরোধী দল এই কমিটিতে থাকবে। এই বোঝাপড়ার কারণেই গত রোববার কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিরোধী দলের উপনেতা কমিটিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এরপর ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার নির্বাচনের পূর্বে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবেই এর বাস্তবায়ন শুরু করতে চেয়েছিলেন এবং বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকারের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল তখন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি, বরং আগে থেকেই তাদের উদারতা ও সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রুলস ২২৬-এর অধীনে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কমিটিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্য এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তবে বিরোধী দল নীতিগতভাবে এই কমিটিতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর সভাপতিত্বে ইতিমধ্যে এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
পরবর্তীতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ ছাড়াও নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সমৃদ্ধ সংশোধনী বিল আনা হবে। তিনি বিরোধী দলকে কমিটিতে এসে তাদের দ্বিমত, ভিন্নমত বা প্রস্তাবগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানান, যা প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করে জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার বিষয়টিও জুলাই সনদের অংশ হলেও তা কার্যকর করতে আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে তিনি জানান।




























