ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, রাষ্ট্র সবার : চিফ হুইপ ২০৩০ সালে ক্ষমতা ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি বাহুবলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি, শঙ্কা স্থানীয়দের ভোলায় সাপের কামড়ে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন জাবি অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান হামের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, বিশ্ববাসীর জন্য সতর্কবার্তা মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান চালালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ঢাকার ২৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করল ডিএমপি

গাড়িতে এহসানুল ও সংসদে মজিবুর, বাজিতপুর বিএনপিতে নতুন সমীকরণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিএনপি রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের নেতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান এলাকায় ছিলেন না। অন্যদিকে, সফরে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়ি থামিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। এহসানুল হুদার অনুসারীরা এটিকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁর অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ওঠার ঘটনাকে স্থানীয় রাজনীতির নেতৃত্বের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বাজিতপুরে বিএনপির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে রয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত সৈয়দ এহসানুল হুদা। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিজের দল ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন এহসানুল হুদা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন শেখ মজিবুর রহমান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি মজিবুর রহমানসহ বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ৮৩ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কৃত হলেও তাঁরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং উপজেলা বিএনপির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দুই পক্ষই ব্যাপক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। মজিবুর রহমানের অনুসারীদের প্রত্যাশা ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে থাকবেন এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ইতিবাচক বার্তা আসবে। কিন্তু সফরের আগের রাতে (১৫ আগস্ট) হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যার কারণে চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান। ফলে সফরের দিন তাঁর পক্ষের নেতা-কর্মীদের বড় কোনো শোডাউন দেখা যায়নি। বিপরীতে, এহসানুল হুদার অনুসারীরা কটিয়াদী এলাকায় সক্রিয় অবস্থান নেন এবং প্রধানমন্ত্রী এহসানুল হুদাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেওয়ায় তাঁরা এটিকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া বলেন, ওরা বলেছিল ওরা মঞ্চে থাকবে, কিন্তু জনগণ দেখেছে ওরা নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজে ডেকে এহসানুল হুদাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছেন, যা বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির রাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা।

তবে মজিবুর রহমানের অনুসারীরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হঠাৎ অসুস্থতার কারণে শেখ মজিবুর রহমানকে সিঙ্গাপুর যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে স্থান পাওয়া মানেই স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা নয়। যারা বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন, তারা স্থানীয় রাজনীতির হিসাব ভুল করছেন। শেখ মজিবুর রহমানের অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া ও ট্রল করাকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে বাজিতপুরের রাজনীতি সাংগঠনিক কর্মসূচির চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ছবির রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখানে নবনির্বাচিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খানের পাশে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী ও আন্দালিব রহমান পার্থের পাশে দাঁড়ানো এহসানুল হুদার ছবিও ভাইরাল হয়।

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি কোনো পক্ষেই নেই, মন্তব্য করেছেন যে দল এখন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

গাড়িতে এহসানুল ও সংসদে মজিবুর, বাজিতপুর বিএনপিতে নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিএনপি রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের নেতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান এলাকায় ছিলেন না। অন্যদিকে, সফরে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর গাড়ি থামিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। এহসানুল হুদার অনুসারীরা এটিকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাঁর অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ওঠার ঘটনাকে স্থানীয় রাজনীতির নেতৃত্বের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বাজিতপুরে বিএনপির রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে রয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত সৈয়দ এহসানুল হুদা। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিজের দল ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন এহসানুল হুদা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন শেখ মজিবুর রহমান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি মজিবুর রহমানসহ বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ৮৩ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কৃত হলেও তাঁরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং উপজেলা বিএনপির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দুই পক্ষই ব্যাপক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। মজিবুর রহমানের অনুসারীদের প্রত্যাশা ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে থাকবেন এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ইতিবাচক বার্তা আসবে। কিন্তু সফরের আগের রাতে (১৫ আগস্ট) হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যার কারণে চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে চলে যান। ফলে সফরের দিন তাঁর পক্ষের নেতা-কর্মীদের বড় কোনো শোডাউন দেখা যায়নি। বিপরীতে, এহসানুল হুদার অনুসারীরা কটিয়াদী এলাকায় সক্রিয় অবস্থান নেন এবং প্রধানমন্ত্রী এহসানুল হুদাকে নিজের গাড়িতে তুলে নেওয়ায় তাঁরা এটিকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এহসান কুফিয়া বলেন, ওরা বলেছিল ওরা মঞ্চে থাকবে, কিন্তু জনগণ দেখেছে ওরা নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজে ডেকে এহসানুল হুদাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছেন, যা বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির রাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা।

তবে মজিবুর রহমানের অনুসারীরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হঠাৎ অসুস্থতার কারণে শেখ মজিবুর রহমানকে সিঙ্গাপুর যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে স্থান পাওয়া মানেই স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা নয়। যারা বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন, তারা স্থানীয় রাজনীতির হিসাব ভুল করছেন। শেখ মজিবুর রহমানের অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া ও ট্রল করাকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে বাজিতপুরের রাজনীতি সাংগঠনিক কর্মসূচির চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ছবির রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন এবং জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখানে নবনির্বাচিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খানের পাশে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী ও আন্দালিব রহমান পার্থের পাশে দাঁড়ানো এহসানুল হুদার ছবিও ভাইরাল হয়।

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি কোনো পক্ষেই নেই, মন্তব্য করেছেন যে দল এখন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo