ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই ভ্রমণে সারাদেশে পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ইয়েমেনের আল-মাশিক প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ২ পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জবিতে গরু নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল মেসি পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ কারা সাতক্ষীরায় ফেসবুক লাইভ করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা গাজীপুরে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক কারবারিদের হামলা, আহত ২ নোবিপ্রবির পুরো ক্যাম্পাস সৌরবিদ্যুৎ চালুর পরিকল্পনা প্রতি তিন মাস পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির তথ্য নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৩৮৯, নিখোঁজ ৯ শতাধিক মানুষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপাল পুলিশ এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এখনো প্রায় ৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন।

বিপর্যয়টি শুরু হয় হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে ছুটে আসার মাধ্যমে। বন্যার তীব্র স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরগুলোতে আঘাত হেনেছে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গেছে। রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

তিব্বত সীমান্তের জিরং শহরেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে, যেখানে তিনজন মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কাদার বিশাল ঢেউ বহুতল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে এবং গাড়ি ও বাস ভেসে যাচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও, যেখানে প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পৌনঃপুনিকতা বাড়ছে। উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোড-এর জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং নতুন বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধ্বংসস্তূপের কারণে পানি আটকে আছে, যা হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটি অঞ্চলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৩৮৯, নিখোঁজ ৯ শতাধিক মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপাল পুলিশ এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এখনো প্রায় ৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন।

বিপর্যয়টি শুরু হয় হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে ছুটে আসার মাধ্যমে। বন্যার তীব্র স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরগুলোতে আঘাত হেনেছে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গেছে। রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

তিব্বত সীমান্তের জিরং শহরেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে, যেখানে তিনজন মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কাদার বিশাল ঢেউ বহুতল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ছে এবং গাড়ি ও বাস ভেসে যাচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও, যেখানে প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পৌনঃপুনিকতা বাড়ছে। উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোড-এর জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং নতুন বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধ্বংসস্তূপের কারণে পানি আটকে আছে, যা হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটি অঞ্চলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo