ফেনীতে খুঁটিতে বেঁধে গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে নির্যাতন, আটক ৩
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় এক গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে খুঁটিতে বেঁধে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ চার সন্তানের জননী এবং যুবদল নেতা জয়নাল আবেদিন প্রকাশ এরশাদ উল্লাহ দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার পর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজারসংলগ্ন অলি মাঝি বাড়ির আবু সুফিয়ানের ছেলে জয়নাল আবেদিন এরশাদ উল্লাহ পূর্ব চরগণেশ এলাকার মাওলানা নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার বাড়িতে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা তাদের আটক করে মারধর শুরু করে এবং পরে এক রশিতে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। এই সময় নির্যাতনকারীদের গানের তালে নাচতে দেখা যায় এবং পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করা হয়, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় মাতুব্বর জয়নাল আবেদিন ও এরশাদ মিয়াজির নেতৃত্বে আয়োজিত সালিশে ওই নারীর বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়। এই সালিশে অর্ধশতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্যাতনের পর রুমার স্বামী মাওলানা নুর আলম বুধবার সকালে তাকে তালাক দেন এবং কোনো বিচার চাইবেন না বলে জানান। অন্যদিকে এরশাদ উল্লাহর দাবি, যুবদলের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এরশাদ ও রুমার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার পর বুধবার রাতে এরশাদের পিতা আবু সুফিয়ানের উদ্যোগে এরশাদ ও কামরুন নাহার রুমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এদিকে, এই নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবর, হাসান ও ফাতেমা আক্তার নামের তিনজনকে আটক করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী এরশাদ উল্লাহর পিতা বৃহস্পতিবার সকালে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানিয়েছেন, আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত অন্যদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল হক খান নয়ন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।



























