ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ক্ষেতলালে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ, বিপাকে আমন চাষিরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চলতি আমন মৌসুমে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কিছু ডিলার ও ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে রসিদ বা মেমো ছাড়াই সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণ শেষে পরিচর্যার জন্য কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগ করছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি ১ হাজার টাকা এবং ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে এই দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। রসিদ চাইলে ব্যবসায়ীরা সার দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউরিয়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং এমওপি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিনাই গ্রামের তোফাজ্জল, আইমাপুর গ্রামের ইউসুফ, আঁটি গ্রামের মোকলেসুর ও শিবপুর গ্রামের এনামুলসহ একাধিক কৃষকের দাবি, দোকানে মূল্যতালিকা থাকলেও বাস্তবে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন। ধানের দাম সারের দামের অনুপাতে না বাড়ায় চাষাবাদে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেতলালে ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। সার ব্যবসায়ী ও বিএডিসির ডিলার শাকিলুর রহমান তালুকদারের দাবি, বৈধ ডিলাররা সরকারি দামেই সার বিক্রি করেন, তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে কালোবাজারি করছে। সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে চাহিদার তুলনায় প্রাপ্যতা কিছুটা কম, তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাথে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কৃষকদের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এবং আলু মৌসুমের জন্য সার মজুত করার প্রবণতা সাময়িক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কৃষকরা বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রির নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষেতলালে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ, বিপাকে আমন চাষিরা

আপডেট সময় : ১২:৫০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চলতি আমন মৌসুমে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সারের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কিছু ডিলার ও ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে রসিদ বা মেমো ছাড়াই সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণ শেষে পরিচর্যার জন্য কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগ করছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, এমওপি ১ হাজার টাকা এবং ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে এই দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। রসিদ চাইলে ব্যবসায়ীরা সার দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউরিয়া ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং এমওপি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিনাই গ্রামের তোফাজ্জল, আইমাপুর গ্রামের ইউসুফ, আঁটি গ্রামের মোকলেসুর ও শিবপুর গ্রামের এনামুলসহ একাধিক কৃষকের দাবি, দোকানে মূল্যতালিকা থাকলেও বাস্তবে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন। ধানের দাম সারের দামের অনুপাতে না বাড়ায় চাষাবাদে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেতলালে ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। সার ব্যবসায়ী ও বিএডিসির ডিলার শাকিলুর রহমান তালুকদারের দাবি, বৈধ ডিলাররা সরকারি দামেই সার বিক্রি করেন, তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে কালোবাজারি করছে। সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে চাহিদার তুলনায় প্রাপ্যতা কিছুটা কম, তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাথে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কৃষকদের অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এবং আলু মৌসুমের জন্য সার মজুত করার প্রবণতা সাময়িক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কৃষকরা বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং সরকারি মূল্যে সার বিক্রির নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh