কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দার মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা রেবতী সরকার ও আলিমুজ্জামান সাজু প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার রাতে তাঁদের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনেরা এখন মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা গেছে। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, চিকিৎসার জন্য পাঁচ-ছয় দিন আগে সাজু ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি সুস্থ-সবল ছিলেন এবং কেবল চেকআপের জন্য সেখানে যান। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাঁরা মৃত্যুর খবর পান। তাঁদের এক ভাগ্নেজামাই কলকাতায় গিয়ে সাজুর মরদেহ শনাক্ত করেছেন। সাহেব সরদার আরও জানান, মরদেহ দেশে আনার জন্য ময়নাতদন্তসহ কিছু আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, যা সম্পন্ন করার জন্য তাঁরা সরকারি যোগাযোগের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম জানান, সাজুর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং এমন একজন মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।
একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রেবতী সরকারের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে রেবতী ভারতে গিয়েছিলেন এবং শনিবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। বুধবার রাতে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভবেশ সরকার সর্বশেষ জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। বর্তমানে ভবেশের ছেলে অনিক সরকার উত্তরাখন্ড থেকে কলকাতায় পৌঁছাচ্ছেন। রেবতী ও ভবেশ দম্পতির অনিক সরকার ও ত্রিশা সরকার নামের দুই সন্তান রয়েছে।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক আকন্দ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। উপহাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারত সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু।



























