বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে গতি আনতে দুই যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন গতি আনতে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। এর মধ্যে একটি টাস্কফোর্স দুই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অন্যটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে কাজ করবে। একই সঙ্গে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে গতি আনা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের জটিলতা নিরসনে জোর দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
ঢাকায় সফররত সিআইআইয়ের ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দুই দিনের সফরে এসে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধা দূর করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহণে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে। বেনাপোলে কার্গো হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ করা গেলে পণ্য পরিবহণের সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের জন্যই ইতিবাচক হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে কেবল শুল্ক কমানো বা নতুন চুক্তি করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্দর, সড়ক, রেল, জ্বালানি ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করা না গেলেও উভয় দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন।
সফররত ভারতীয় প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিনিয়োগ, অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, লজিস্টিক ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসে, তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হলে বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
পরবর্তীতে সিআইআই প্রতিনিধিদলটি এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি, যৌথ বিনিয়োগ ও সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন।
ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনেস) যোগাযোগ জোরদার করা। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সিআইআইয়ের এই প্রস্তাবকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন ও মো. জসিম উদ্দিন, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মশিউর রহমান।
যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আব্দুল আউয়াল মিন্টু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যের বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে উভয়পক্ষের ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। সরকার মূলত নীতিমালা নির্ধারণ করে, তবে ব্যবসার প্রকৃত সমস্যাগুলো ব্যবসায়ীরাই ভালো জানেন। তাই এফবিসিসিআই ও সিআইআইয়ের মতো শীর্ষ সংগঠনগুলোর যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।




























