ময়মনসিংহে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: প্রতিশোধের কথা জানালেন গ্রেপ্তার আসামি
- আপডেট সময় : ০৫:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি (২৫) নামে এক কম্পিউটার দোকানের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। র্যাবের ভাষ্যমতে, গতকাল দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাব্বির মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনের শেষে গণমাধ্যমের সামনে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন আবদুল খালেক। তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন তার বাবা ফজলুল হককে মারধর করে এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খালেক বলেন, 'আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।' তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাব্বি এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন এবং যারা টাকা দিত না তাদের ওপর হামলা চালাতেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি র্যাব।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে একটি বড় দা বা হাঁসুয়া ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন খালেক। প্রাথমিক তদন্তে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তবে ঘটনার পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল বলেও তথ্য পেয়েছে র্যাব।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























