ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

রাখাইনের পরিস্থিতি উন্নত হলে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে ইচ্ছুক মিয়ানমার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমারের জান্তাসমর্থিত সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এসব রোহিঙ্গা মূলত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে প্রায় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমানে সেখানে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সামরিক অভিযান ছিল গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শামিল। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই রোহিঙ্গাদের তাদের ১৩৫টি স্বীকৃত নৃগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে স্বীকার করে না, বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে আসছে।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের দাবি, গত জুলাই মাসের শেষ নাগাদ তারা বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা যাচাই-বাছাই করেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। তবে তারা রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আন্তর্জাতিক তথ্যটি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদী প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তা ভেস্তে যায়। ২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যকার নতুন সংঘাতের কারণে রাখাইনের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তার সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার কথা বললেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচি কেবল মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

রাখাইনের পরিস্থিতি উন্নত হলে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে ইচ্ছুক মিয়ানমার

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমারের জান্তাসমর্থিত সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এসব রোহিঙ্গা মূলত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের মুখে প্রায় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর আগে থেকেই কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বর্তমানে সেখানে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই সামরিক অভিযান ছিল গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শামিল। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই রোহিঙ্গাদের তাদের ১৩৫টি স্বীকৃত নৃগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে স্বীকার করে না, বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে আসছে।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের দাবি, গত জুলাই মাসের শেষ নাগাদ তারা বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা যাচাই-বাছাই করেছে। এই প্রক্রিয়ায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। তবে তারা রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আন্তর্জাতিক তথ্যটি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদী প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হলেও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তা ভেস্তে যায়। ২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী ও আরকান আর্মির মধ্যকার নতুন সংঘাতের কারণে রাখাইনের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তার সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার কথা বললেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচি কেবল মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo