গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: মধ্যরাতে ঢাকার বহু এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিং
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যরাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ঢাকার বাসিন্দাদের। বিভিন্ন এলাকায় কোথাও এক ঘণ্টা, আবার কোথাও দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট চলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা থেকে দেড়টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেনের আংশিক এলাকা, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। রাত ১১টার দিকে শেওড়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিদ্যুৎ নেই, যা প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়।
মৌচাক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাধারণত ট্রান্সফরমারে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসে। তবে বুধবার রাতে সেখানে প্রায় ৫০ মিনিটেও বিদ্যুৎ আসেনি। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আনিকা তাসনিম জানান, তাঁর এলাকায় মধ্যরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং হয়েছে। ঢাকার বুকে মাঝরাতে এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং আগে কখনও দেখেননি উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, আগের চেয়ে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল দিয়েও মাঝরাতে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুমের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
কাজীপাড়ার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক রাহাত আহমেদ বলেন, গত তিন বছরের মধ্যে বুধবার রাতেই তাঁর এলাকায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম আর মশার উপদ্রবে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি সরকারের কাছে বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা দূর করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
তবে রাজধানীর সব এলাকায় পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটেনি। মিরপুর-১১ ও সাংবাদিক প্লট এলাকায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। অবশ্য রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বাসায় ফেরার পথে বিহারি ক্যাম্প এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানান।
মূলত চলমান তীব্র গ্যাস-সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা সোমবার বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। এরপর মঙ্গলবার ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং বুধবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং রেকর্ড করা হয় ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। এছাড়া পিডিবি ও আরইবি সূত্র জানায়, ১১ আগস্ট রাত ১২টায় সারা দেশে মোট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট, যার মধ্যে আরইবি এলাকাতেই ছিল ৩ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।
এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গতকাল দেশে গ্যাসের চাহিদা যেখানে ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সেখানে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকার কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।





























