মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার
- আপডেট সময় : ০৭:২০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হাইওয়ে পুলিশ এখন বিশেষ নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করেছে। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য কমাতে সারা দেশে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জারি করা হয়েছে। পুলিশের বাড়তি তৎপরতা ও সতর্কতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দৃশ্যমান টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রযুক্তির এই ব্যবহারের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকায় নম্বর প্লেট স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো সরাসরি বিআরটিএ ডেটাবেজ সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত। গতিসীমা লঙ্ঘন, উলটো পথে গাড়ি চালানো বা লেন ভাঙার মতো অনিয়ম করলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স প্লেট স্ক্যান করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করবে। এর মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিককে শনাক্ত করে দ্রুত মোবাইলে ই-মামলা ও জরিমানার বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ১৮ আগস্ট থেকে এই অটো-মামলার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ বা মামলা নিষ্পত্তি না হলে বিআরটিএ থেকে সংশ্লিষ্ট গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ব্লক করে রাখা হবে।
মহাসড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইওয়ে পুলিশ প্রধান ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে কোনো গাড়ি থামানো যাবে না। গাড়ি থামিয়ে অহেতুক মামলা বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত এক মাসে ২ অতিরিক্ত ডিআইজি, ২ এসপি ও ৫১ পুলিশ পরিদর্শককে হাইওয়ে পুলিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মহাসড়কে মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সমিতির চাঁদা কেবল টার্মিনালের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীসেবা সহজ করতে জরুরি সেবার অ্যাপ ‘হ্যালো এইচপি’ আরও উন্নত করা হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগী এক ক্লিকেই কাছের পুলিশ টহল টিমের সাহায্য পেতে পারেন। এছাড়া মহাসড়কে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করতে বিশেষ অ্যালার্ট বিকন লাইট বসানো হচ্ছে। যানজট নিরসনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। কুমিল্লা ও নিমসার বাজারের মতো যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য আরসিসি ঢালাই বা বাজার স্থানান্তরের মতো পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আধুনিক প্রযুক্তির উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানা গেছে।



























