পারমাণবিক হামলা হলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি দখলের হুঁশিয়ারি ইরানের
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে ইরান। ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালায়, তবে তার ঠিক পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব কটি সামরিক ঘাঁটি দখল করে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে জেনারেল নাকদি বলেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরানের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেই কৌশল গত পাঁচ মাসে তারা খুব ভালোভাবেই শিখে নিয়েছেন। পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত মার্কিনদের জন্য একটি মস্ত বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। বর্তমান বিশ্বের মানুষ অনেক বেশি সচেতন হওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি এখন আর নেই এবং কোনো মানুষই এমন জঘন্য অপরাধ মেনে নেবে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে। ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জেনারেল নাকদি বলেন, শত্রুকে ক্ষয়িষ্ণু করে এমন এক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর ইরানের ওপর হামলার সাহস না পায়।
ইরান নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে কি না, জানতে চাইলে এই জেনারেল স্পষ্ট করে বলেন যে এর কোনো প্রয়োজনই নেই। তাদের আসল পারমাণবিক বোমা হলো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়, যা তারা জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় করেছেন। এছাড়া মার্কিন রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ (ডেথ টু আমেরিকা) স্লোগানটির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর অর্থ মূলত মার্কিন প্রশাসন বা কুখ্যাত নেতৃত্বের ধ্বংস বোঝায়, সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। এই পরাশক্তি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সামরিক আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
নিজেদের সামরিক শক্তির দর্শন তুলে ধরে জেনারেল নাকদি জানান, তারা শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নন, বরং নিজেদের বিশ্বাসের জোরেই বিজয়ী হবেন। তবে তিনি দাবি করেন, তেহরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে, তার চেয়ে বেশি তৈরি করছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত একাধিক গোপন পদ্ধতিতে এগুলো তৈরি করা হয়। যুদ্ধ বছরের পর বছর চললেও শেষ দিন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এমনকি কোনো দিন যদি ইরানের কাছে একটিও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট না থাকে, ঠিক তখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও মারাত্মক হয়ে উঠবেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যাপারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে গত ৮ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই চুক্তিটি ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দেন এবং এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্থগিত করে। বর্তমানে ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, চুক্তি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালনে তেহরান ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন নিজেই বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার ও অবরুদ্ধ ব্যাংক সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছে।

























