ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হুথি হামলার আশঙ্কায় লোহিত সাগরে তেল রপ্তানি ট্র্যাকিং বন্ধ বসুন্ধরায় গোপন বৈঠককালে আওয়ামী লীগের ৫০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার দক্ষিণ ইংল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত অন্তত ১৮ ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরে ৮৬ জন শিক্ষক নিয়োগ: আবেদনের সময় ও নিয়ম জ্বালানি সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের রাজধানীর বাজারে ডিমের দাম কমলেও অপরিবর্তিত মাছ-মাংসের দর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে রণতরী জর্জ ওয়াশিংটন, ফিরছে রেকর্ড গড়া ‘আব্রাহাম লিংকন’ আফগানিস্তানে বোমা হামলায় প্রাদেশিক রাজধানীর মেয়র নিহত দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের প্রথম সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। টোকিও এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। বিতর্কিত এই অঞ্চলে পুতিনের এটিই প্রথম সফর।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ইতুরুপ সফর করেন পুতিন, যা জাপানে ‘এতোরোফু’ নামে পরিচিত। রুশ রাষ্ট্রেীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সফরের তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি জাপানি জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপগুলো নিয়ে জাপানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থি।

এ দিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগিও এই সফরের নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত এই দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ—কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ (জাপানি নাম যথাক্রমে কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোরোফু)—নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে জাপান একে ‘উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল’ বলে অভিহিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখল করে নেওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে বিতাড়িত করা হয়। বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সোনা, রুপাসহ বিভিন্ন খনিজ ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপগুলোতে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করছেন।

জাপানের প্রতিবাদের জবাবে পুতিন তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এই সফরকে কোনো উসকানি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘জাপান রাশিয়াকে তাদের জন্য প্রধান হুমকি মনে করে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করতে চাই, আমরা জাপানের জন্য কোনো হুমকি নই; বরং তারা আমাদের ভূখণ্ডের ওপর মালিকানা দাবি করছে।’

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আগে পুতিন রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ সফর করেন, যেখানে রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। সেখানে তিনি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি বৈঠক করেন এবং এরপরই কুরিল সফরে যান। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জি-৭ ভুক্ত দেশ হিসেবে জাপানের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। পুতিনের এই সফর সেই অমীমাংসিত বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের প্রথম সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। টোকিও এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। বিতর্কিত এই অঞ্চলে পুতিনের এটিই প্রথম সফর।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ইতুরুপ সফর করেন পুতিন, যা জাপানে ‘এতোরোফু’ নামে পরিচিত। রুশ রাষ্ট্রেীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সফরের তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি জাপানি জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপগুলো নিয়ে জাপানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থি।

এ দিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগিও এই সফরের নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত এই দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ—কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ (জাপানি নাম যথাক্রমে কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোরোফু)—নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে জাপান একে ‘উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল’ বলে অভিহিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখল করে নেওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ১৭ হাজার জাপানি বাসিন্দাকে বিতাড়িত করা হয়। বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সোনা, রুপাসহ বিভিন্ন খনিজ ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপগুলোতে প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করছেন।

জাপানের প্রতিবাদের জবাবে পুতিন তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এই সফরকে কোনো উসকানি মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘জাপান রাশিয়াকে তাদের জন্য প্রধান হুমকি মনে করে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করতে চাই, আমরা জাপানের জন্য কোনো হুমকি নই; বরং তারা আমাদের ভূখণ্ডের ওপর মালিকানা দাবি করছে।’

কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আগে পুতিন রাশিয়ার সাখালিন দ্বীপ সফর করেন, যেখানে রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। সেখানে তিনি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি বৈঠক করেন এবং এরপরই কুরিল সফরে যান। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জি-৭ ভুক্ত দেশ হিসেবে জাপানের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। পুতিনের এই সফর সেই অমীমাংসিত বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh