বিদ্যুৎ খাত বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি শ্রমিক ফেডারেশনের

- আপডেট সময় : ০১:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ছয়টি বিতরণ অঞ্চল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ একটি সেবা খাত। এই খাত বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবির। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, ডিপিডিসির সভাপতি আ ন ম বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম।
আতিকুর রহমান নবাবগঞ্জের কানসার্টের ট্র্যাজেডি স্মরণ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে কেন বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের আমলে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে এস আলম গ্রুপকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রীও একই পথে হাঁটছেন এবং লুটপাটকারী এস আলম গ্রুপকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। বিদ্যুৎমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তিনি এ দেশের মন্ত্রী নাকি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে সরকার বিতর্কিত করার কাজে লিপ্ত।
বিদ্যুৎমন্ত্রীর গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, জনগণকে বোকা মনে করবেন না। ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণকে বোকা মনে করে কিছু করতে চাইলে হিতে বিপরীত হবে। ভুতুড়ে বিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বর্ধিত বিল আদায় করলে বিদ্যুৎ ভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা পাঁচ মাসে কিছু করতে পারে না, তারা পাঁচ বছরেও পারবে না। শেষে তিনি 'বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে—নইলে গদি ছেড়ে দে' স্লোগান উচ্চারণ করেন।
মানববন্ধনে সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে প্রাইভেট লিমিটেড না করে আধুনিকায়ন ও লাভজনক করা, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, মৃত্যুবরণকারী বিদ্যুৎকর্মীদের পোষ্যদের চাকরি দেওয়া, সিবিএ নির্বাচন দিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন স্বাভাবিক করা, পে-স্কেল বাস্তবায়ন, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ, দ্রুত পদোন্নতি এবং আবাসন সমস্যা নিরসনে মানসম্মত আবাসিক ভবন নির্মাণ।

























