কারফিউ ও দমন-পীড়ন নিয়ে আনিসুল-সালমানের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করার আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মধ্যকার একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার মামলার চতুর্থ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন এই কথোপকথনের লিখিত সংস্করণ আদালতে তুলে ধরেন।
১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে আনিসুল হককে বলতে শোনা যায়, কারফিউ জারি করে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার বিষয়টি একটি সম্ভাব্য পথ। কথোপকথনের এক পর্যায়ে আনিসুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফোনে বিস্তারিত আলোচনা করা ঠিক হবে না, তবে 'রিয়েল হার্ম' বা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। এর জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, প্রথম অপশনটি কাজ করছে এবং সেটিই করা উচিত। কথোপকথনে আনিসুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, তার সহকর্মী কামাল জানিয়েছেন নর্থ সাইডের লোকদের সম্পৃক্ত হতে হবে। সালমান এফ রহমান তখন জানান, এ বিষয়ে তিনিও একই বার্তা পেয়েছেন।
একই দিনে প্রসিকিউশন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের মধ্যকার ২১ জুলাই ২০২৪-এর একটি ফোনালাপও আদালতে উপস্থাপন করে। সেই কথোপকথনে কারফিউ চলমান রাখা এবং আন্দোলন দমনে প্রস্তুতির জন্য অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ওবায়দুল কাদের সেখানে মির্জা আজমকে জানান যে, সালমান এফ রহমান অর্থ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মির্জা আজম অভিযোগ করেন যে, অনেক এমপি এলাকায় টাকা খরচ করছেন না বা ফোন ধরছেন না। বিশেষ করে ধানমন্ডির ফেরদৌস ও আরাফাতের প্রসঙ্গ টেনে আজম বলেন, তারা টাকা দেওয়া তো দূরের কথা, ফোনও রিসিভ করেন না। কাদের তখন আরাফাতকে 'ওস্তাদ' বলে সম্বোধন করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ আসামি হিসেবে রয়েছেন। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক বলে জানানো হয়েছে।
























