ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভাইরাল মিজান এইচএসসিতে প্রশ্নে ভুল ও বিতরণে গরমিল, প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতে বড় বদল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিত উত্তর ২৪ পরগনায় মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৭২ জন বিভ্রান্তিকর কথা বলে শান্তি নষ্ট করবেন না: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

এইচএসসিতে প্রশ্নে ভুল ও বিতরণে গরমিল, প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতে বড় বদল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে নানা ভুলত্রুটি এবং কেন্দ্রগুলোতে ভুল প্রশ্ন বিতরণের ঘটনার পর প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন (মডারেশন) পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানু জানিয়েছেন, আগামী পরীক্ষাগুলোয় দ্বিতীয়বার মডারেশনের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র পরিশোধনের সময় ইংরেজি সংস্করণের শিক্ষকের পাশাপাশি একজন ইংরেজি ভাষার শিক্ষকও যুক্ত থাকবেন। চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, ভুল হওয়া ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। এই প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রসায়ন ও জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের ইংরেজি সংস্করণের নৈর্ব্যক্তিক অংশেও প্রশ্ন ও অনুবাদের অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার উত্তরার এক পরীক্ষার্থী জানান, উচ্চতর গণিতের একটি জানা প্রশ্নে অসংগতি থাকায় ঝুঁকি এড়াতে তিনি কম আয়ত্তে থাকা অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হন। ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নপত্রে এমন ভুলের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়, অতীতেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর ২০২৪ (2024) সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরও বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অনেকাংশে ব্যাহত হয়েছে।

শুধু প্রশ্ন প্রণয়ন বা পরিশোধনেই নয়, দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণেও চরম অব্যবস্থাপনা ও গরমিল দেখা গেছে। গত ২৭ জুলাই দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের জায়গায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ভুল বুঝতে পেরে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন এনে পরীক্ষা নেওয়া হলেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ১৫ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফ্ফর হোসেন কলেজে ৪২ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে গত বছরের সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৪ জুলাই জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে, যেখানে শতাধিক নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে অনিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বোর্ড থেকে ১০০ (100) পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে বলা হয়। পরে বোর্ড থেকে তাদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা কমিটি বাতিল করে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজে ২ আগস্ট ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে ১৪ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খানসহ তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিয়ম অনুযায়ী, মাস্টার ট্রেইনারদের তালিকা থেকে চারজন শিক্ষক পৃথকভাবে চার সেট প্রশ্ন তৈরি করেন, যা পরে চারজন মডারেটর যাচাই করেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া অন্য বিষয়ে বড় ভুল ছিল না, কিছু বানান ভুল থাকতে পারে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবন নির্ধারণ করে, তাই এখানে ভুল বা বিতরণে গরমিল কোনোভাবেই কাম্য নয়। অসতর্কতা, কাজের চাপ বা তাড়াহুড়ো এর কারণ হতে পারে। কেবল নম্বর সমন্বয় বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

এইচএসসিতে প্রশ্নে ভুল ও বিতরণে গরমিল, প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতে বড় বদল

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
print news

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে নানা ভুলত্রুটি এবং কেন্দ্রগুলোতে ভুল প্রশ্ন বিতরণের ঘটনার পর প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধন (মডারেশন) পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানু জানিয়েছেন, আগামী পরীক্ষাগুলোয় দ্বিতীয়বার মডারেশনের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র পরিশোধনের সময় ইংরেজি সংস্করণের শিক্ষকের পাশাপাশি একজন ইংরেজি ভাষার শিক্ষকও যুক্ত থাকবেন। চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, ভুল হওয়া ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। এই প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রসায়ন ও জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের ইংরেজি সংস্করণের নৈর্ব্যক্তিক অংশেও প্রশ্ন ও অনুবাদের অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার উত্তরার এক পরীক্ষার্থী জানান, উচ্চতর গণিতের একটি জানা প্রশ্নে অসংগতি থাকায় ঝুঁকি এড়াতে তিনি কম আয়ত্তে থাকা অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য হন। ইংরেজি সংস্করণের প্রশ্নপত্রে এমন ভুলের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়, অতীতেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর ২০২৪ (2024) সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরও বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অনেকাংশে ব্যাহত হয়েছে।

শুধু প্রশ্ন প্রণয়ন বা পরিশোধনেই নয়, দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণেও চরম অব্যবস্থাপনা ও গরমিল দেখা গেছে। গত ২৭ জুলাই দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের জায়গায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ভুল বুঝতে পেরে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন এনে পরীক্ষা নেওয়া হলেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ১৫ জুলাই বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফ্ফর হোসেন কলেজে ৪২ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে গত বছরের সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৪ জুলাই জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে, যেখানে শতাধিক নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে অনিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বোর্ড থেকে ১০০ (100) পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে বলা হয়। পরে বোর্ড থেকে তাদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা কমিটি বাতিল করে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজে ২ আগস্ট ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে ১৪ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খানসহ তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিয়ম অনুযায়ী, মাস্টার ট্রেইনারদের তালিকা থেকে চারজন শিক্ষক পৃথকভাবে চার সেট প্রশ্ন তৈরি করেন, যা পরে চারজন মডারেটর যাচাই করেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া অন্য বিষয়ে বড় ভুল ছিল না, কিছু বানান ভুল থাকতে পারে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবন নির্ধারণ করে, তাই এখানে ভুল বা বিতরণে গরমিল কোনোভাবেই কাম্য নয়। অসতর্কতা, কাজের চাপ বা তাড়াহুড়ো এর কারণ হতে পারে। কেবল নম্বর সমন্বয় বা সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo