অর্থনৈতিক চাপ ও আইএমএফের সতর্কতায় আটকে আছে নতুন পে স্কেল

- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার।
বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনা করার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ অবস্থায় নতুন সরকারের পে স্কেল দেওয়ার উদ্যোগকে সময়োপযোগী মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। বর্তমান রাজস্ব আদায়ের যে পরিস্থিতি, তাতে এই বিপুল পরিমাণ বাড়তি অর্থ সংস্থান করা বেশ কঠিন হবে এবং এটি ঘাটতি বাজেটের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।
এদিকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের পক্ষ থেকেও সতর্কতা রয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বাড়ানো হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি হবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়লে বেতন-ভাতা পরিশোধে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো খতিয়ে দেখছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া টাকাও এককালীন পেয়ে যাবেন।


























