গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল

- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে শ্যামনগর উপজেলাজুড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এই কর্মসূচিতে মো. ফরিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, নৈতিক স্খলনের মাধ্যমে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কেবল নিজের সম্মানের ক্ষতি করেননি, বরং সমগ্র আলেম সমাজকে অপমানিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে নজরুল ইসলামকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
একই দিনে উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নুরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারেও বিভিন্ন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আছাদুল্লাহ বাহার, আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান। বক্তারা দাবি করেন, নৈতিক কারণে গাজী নজরুল ইসলাম আর সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন না এবং শ্যামনগরবাসী তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
একইভাবে নুরনগর বাজারে আয়োজিত সমাবেশে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর। কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাশিমাড়ী বাজারেও বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে ব্যবসায়ী সোলাইমান কবির ও আজিজুল ঢালী বক্তব্য রাখেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ সদস্য পদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে শুরুতে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে।



























