ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রির অভিনব উদ্যোগ ফিফার গণভোট থেকে সরে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আহত: হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল, আলোচনায় নবম পে-স্কেল ও নতুন ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের ৩১টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবী পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: হাফিজ উদ্দিন আহমদ ঢামেকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুনামগঞ্জে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় চার পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল পাটগ্রাম সীমান্তে তিন নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের, ব্যর্থ করল বিজিবি চা খেতে গিয়ে নিখোঁজ রামগঞ্জের রাসেল, এক মাসেও মেলেনি সন্ধান হালান্ডের সঙ্গে তুলনায় নারাজ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন

পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। গত শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের প্রাক্কালে তাজউদ্দিন আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় শেখ মুজিব তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চান না এবং পাকিস্তান ভাঙার প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে আগ্রহী নন। এ কারণেই তিনি তখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে জানান স্পিকার।

স্পিকার আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর যখন দেশ চরম সংকটময় পরিস্থিতির মুখে পড়ে, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল পুরো জাতির যুদ্ধ। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া সভায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: হাফিজ উদ্দিন আহমদ

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
print news

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। গত শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের প্রাক্কালে তাজউদ্দিন আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় শেখ মুজিব তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চান না এবং পাকিস্তান ভাঙার প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে আগ্রহী নন। এ কারণেই তিনি তখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি বলে জানান স্পিকার।

স্পিকার আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর যখন দেশ চরম সংকটময় পরিস্থিতির মুখে পড়ে, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল পুরো জাতির যুদ্ধ। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

নিজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া সভায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।