অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি সংসদে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার রেশ না কাটতেই এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠল জাতীয় সংসদে।
সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই সময়ের সব কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
২৮ জুন রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি তোলেন।
অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতার নীতির ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল ভিত্তিই হলো স্বচ্ছতা, তাই কোন স্তরেই দুর্নীতির সুযোগ থাকা উচিত নয়, বিগত সময়ে কী ঘটেছে তা যেমন সামনে আসা প্রয়োজন, তেমনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সালাহউদ্দিন আহমদ সরাসরি অভিযোগের সুরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর ছিল ১টি চরম অস্থির সময় যমুনার অভ্যন্তরে এবং যমুনার কিনারায় তৎকালীন সরকার পরিচালনাকারীদের ইঙ্গিত করে, কী পরিস্থিতি ছিল, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের প্রতিটি কার্যক্রম দুদকের মাধ্যমে কঠোর ভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হক, দুর্নীতির অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই উঠুক, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতামত সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ, বিগত দেড় বছরের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, এখন সরকারের ১ জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নিজেই যখন আনুষ্ঠানিক ভাবে তদন্তের দাবি তুলেছেন, তখন বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই তদন্তের বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে এবং দুদক এ ব্যাপারে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

























