ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নির্ভুল হামলা: বিপর্যস্ত জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি বাংলামটরে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ উপনিবেশোত্তর পাকিস্তান আমলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্য গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স: ক্ষুধা কমানোর গতি কমে বাংলাদেশ ৮৪তম বন্দর লিজের আগে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি সাইফুল হকের পরিবেশ রক্ষায় কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরসূচিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় কমল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সালমানের প্র্যাঙ্কে শুটিং সেটে কেঁদে ফেলেছিলেন কারিশমা কাপুর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার নির্দেশ, বাধা নেই ভ্রমণে

আমি রাঙ্গুনিয়ার সকল মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি :তথ্যমন্ত্রী

মুবিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

আমি রাঙ্গুনিয়ার সকল মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি :তথ্যমন্ত্রী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুবিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘একদিকে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, রেললাইন বানায়, নদীভাঙ্গন রোধ করে, শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই দেয়। আর বিএনপি নির্বাচন বর্জনের নামে দেশের সম্পদ নষ্ট করে দিচ্ছে। বাসে-ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, তারা মানুষ পোড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নামে এভাবে মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতি দুনিয়ার কোথাও নাই। এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে কঠোর হাতে তাদের দমন করতে হবে।’

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের গোয়ালপুরা বাজার, কোদালা বাজার, চা বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ এ সব কথা বলেন।

এ সময় তিনি কোদালা চা বাগানের শ্রমিক, গ্রামের নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন এবং এরপর রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী স্লোগান দেয় ‘’আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’’। ওরা বলে, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে। এদিকে আজ ফিলিস্তিনে মুসলমানদেরকে পাখি শিকার করার মতো করে হত্যা করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, তৎমধ্যে বেশিরভাগ নারী এবং শিশু। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত আজ পর্যন্ত একটি শব্দ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করে নাই। তাদের নেতা তারেক রহমান কথা বলতে নিষেধ করেছে, কারণ একটি বড় রাষ্ট্র নাখোশ হতে পারে। তারা আজকে মোনাফেক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আর তাদের ওপর আল্লাহ নারাজ হয়ে গেছে। সুতরাং, এদেরকে চিনে রাখতে হবে। এরা নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়।’

নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজের পর মানুষের উপকারের মাধ্যমে আমার দিনের কাজ শুরু হয়। আমি কোনো মানুষের অপকার করি নাই, কারো অপকার করা আমার ধর্ম নয়। আপনারা জানেন রাঙ্গুনিয়ার কোনো পাগল বা ভিক্ষুকও যদি আমার গাড়ির সামনে হাত দেখায়, আমার গাড়ি দাঁড়ায়। আমি গাড়ি থামিয়ে কথা বলি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় এবং দলের মধ্যেও সিনিয়র পজিশনে বসিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করার। জাতীয় পর্যায়ে আমার অনেক দায়িত্ব, এরপরও একজন চেয়ারম্যান যেভাবে এলাকায় সময় দেয়, আমি সেইভাবে সময় দিই।’

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীসহ রাঙ্গুনিয়ার অন্যান্য নদীর ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে, আরো ১’শ কোটি টাকার কাজ হবে। অনেক জেলায়ও এত উন্নয়ন কাজ হয়নি। রাঙ্গুনিয়ার ৮ হাজার ছেলে মেয়ের চাকুরি হয়েছে আমার হাত দিয়ে। চাকুরীর সুপারিশ করার সময় আমি কখনো ভাবিনি, কে কোন দল করে। আমি সব মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি।’

আগামী ৭ জানুয়ারি আত্মীয়-স্বজন সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের আহবান জানিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি ঘরানার মানুষও অনেকে আমাকে ভোট দেয়। রাঙ্গুনিয়ায় আগেও এমপি, মন্ত্রী ছিল। কেউ একটি মসজিদ ভবন বানিয়েছে দেখিয়ে দিতে পারবেন না। মসজিদের মধ্যে কিছু টাকা দিয়েছে বা বড়জোর এক-দুই টন চাল টিআর দিয়েছে বলতে পারবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পারিবারিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ায় ২৪টি নতুন মসজিদ বিল্ডিং করে দিয়েছি। রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছে। গত ১৫ বছর সবার জন্য আমার দরজা খোলা রেখেছি, পাঁচ বছর পর আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি, আপনারা দয়া করে আপনাদের দুয়ারটি আমার জন্য খুলে দেবেন। ৭ জানুয়ারি সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন সেই প্রত্যাশা রইল।’

আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রমে যোগ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আমি রাঙ্গুনিয়ার সকল মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি :তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

মুবিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘একদিকে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, রেললাইন বানায়, নদীভাঙ্গন রোধ করে, শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই দেয়। আর বিএনপি নির্বাচন বর্জনের নামে দেশের সম্পদ নষ্ট করে দিচ্ছে। বাসে-ট্রেনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, তারা মানুষ পোড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির নামে এভাবে মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতি দুনিয়ার কোথাও নাই। এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে কঠোর হাতে তাদের দমন করতে হবে।’

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের গোয়ালপুরা বাজার, কোদালা বাজার, চা বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ এ সব কথা বলেন।

এ সময় তিনি কোদালা চা বাগানের শ্রমিক, গ্রামের নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন এবং এরপর রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী স্লোগান দেয় ‘’আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’’। ওরা বলে, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে। এদিকে আজ ফিলিস্তিনে মুসলমানদেরকে পাখি শিকার করার মতো করে হত্যা করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, তৎমধ্যে বেশিরভাগ নারী এবং শিশু। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত আজ পর্যন্ত একটি শব্দ ইসরাইলের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করে নাই। তাদের নেতা তারেক রহমান কথা বলতে নিষেধ করেছে, কারণ একটি বড় রাষ্ট্র নাখোশ হতে পারে। তারা আজকে মোনাফেক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আর তাদের ওপর আল্লাহ নারাজ হয়ে গেছে। সুতরাং, এদেরকে চিনে রাখতে হবে। এরা নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়।’

নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে নামাজের পর মানুষের উপকারের মাধ্যমে আমার দিনের কাজ শুরু হয়। আমি কোনো মানুষের অপকার করি নাই, কারো অপকার করা আমার ধর্ম নয়। আপনারা জানেন রাঙ্গুনিয়ার কোনো পাগল বা ভিক্ষুকও যদি আমার গাড়ির সামনে হাত দেখায়, আমার গাড়ি দাঁড়ায়। আমি গাড়ি থামিয়ে কথা বলি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় এবং দলের মধ্যেও সিনিয়র পজিশনে বসিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করার। জাতীয় পর্যায়ে আমার অনেক দায়িত্ব, এরপরও একজন চেয়ারম্যান যেভাবে এলাকায় সময় দেয়, আমি সেইভাবে সময় দিই।’

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীসহ রাঙ্গুনিয়ার অন্যান্য নদীর ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে, আরো ১’শ কোটি টাকার কাজ হবে। অনেক জেলায়ও এত উন্নয়ন কাজ হয়নি। রাঙ্গুনিয়ার ৮ হাজার ছেলে মেয়ের চাকুরি হয়েছে আমার হাত দিয়ে। চাকুরীর সুপারিশ করার সময় আমি কখনো ভাবিনি, কে কোন দল করে। আমি সব মানুষের এমপি হবার চেষ্টা করেছি।’

আগামী ৭ জানুয়ারি আত্মীয়-স্বজন সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট প্রদানের আহবান জানিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি ঘরানার মানুষও অনেকে আমাকে ভোট দেয়। রাঙ্গুনিয়ায় আগেও এমপি, মন্ত্রী ছিল। কেউ একটি মসজিদ ভবন বানিয়েছে দেখিয়ে দিতে পারবেন না। মসজিদের মধ্যে কিছু টাকা দিয়েছে বা বড়জোর এক-দুই টন চাল টিআর দিয়েছে বলতে পারবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পারিবারিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ায় ২৪টি নতুন মসজিদ বিল্ডিং করে দিয়েছি। রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ পেয়েছে। গত ১৫ বছর সবার জন্য আমার দরজা খোলা রেখেছি, পাঁচ বছর পর আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি, আপনারা দয়া করে আপনাদের দুয়ারটি আমার জন্য খুলে দেবেন। ৭ জানুয়ারি সবাইকে সাথে নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন সেই প্রত্যাশা রইল।’

আওয়ামী লীগের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রমে যোগ দেন।