ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতৃত্বের পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য রক্ষায় তারকাদের এগ ফ্রিজিং রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চালক ও পথচারীদের বিশেষ সতর্কতা বিশ্ব প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় উজ্জ্বল নক্ষত্র বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. সাইফ ইসলাম রাজধানীতে আজও অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টি বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দিনভর নানা কর্মসূচি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নৈশক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭ বাঁশখালীতে বন্যার তোড়ে নিঃস্ব আশা খাতুন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা সুপার কম্পিউটার জানাল, কোন দল জিতবে ২০২৬ বিশ্বকাপ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু

বাঁশখালীতে বন্যার তোড়ে নিঃস্ব আশা খাতুন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা আশা খাতুন এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের ভিটার দিকে তাকিয়ে অশ্রু ঝরাচ্ছেন। চার দিন আগে গভীর রাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তাঁর শেষ সম্বল মাটির ঘরটি তলিয়ে যায়। ষাটোর্ধ্ব এই নারী জানান, চোখের পলকেই ঘর, ধানের গোলা, চাল ও হাঁস-মুরগি সব ভেসে গেছে। পুকুরের মাছও বন্যার পানিতে বেরিয়ে গেছে। এখন এক কাপড়েই ঘর ছেড়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি গ্রামের এক প্রতিবেশীর পাকা দালানে আশ্রয় নিয়েছেন।

রোববার দুপুরে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে নিজের ভিটায় ফিরেও কোনো অবশিষ্ট পাননি আশা খাতুন। স্বামী আবদুর রাজ্জাককে কয়েক বছর আগে হারানোর পর তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। দুই ছেলে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালালেও, সারা জীবনের জমানো অর্থে তৈরি মাটির ঘরটিই ছিল তাঁদের একমাত্র সম্বল। বর্তমানে চিড়া ও পানি খেয়ে দিন পার করছেন এই পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ায় অনেকেরই ঘরের মালামাল বা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। পশ্চিম কোকদণ্ডী গ্রামের অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা, মাঠ ও পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরের টিনের চালা এখনো পানির ওপরে ভাসছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। ভারী বর্ষণের ফলে ৬ জুলাই থেকে বাঁশখালীর বাহারছড়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, গণ্ডামারা, কাথারিয়া, বৈলছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলাকা তলিয়ে গেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্দশা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাঁশখালীতে বন্যার তোড়ে নিঃস্ব আশা খাতুন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই

আপডেট সময় : ১০:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
print news

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা আশা খাতুন এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের ভিটার দিকে তাকিয়ে অশ্রু ঝরাচ্ছেন। চার দিন আগে গভীর রাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তাঁর শেষ সম্বল মাটির ঘরটি তলিয়ে যায়। ষাটোর্ধ্ব এই নারী জানান, চোখের পলকেই ঘর, ধানের গোলা, চাল ও হাঁস-মুরগি সব ভেসে গেছে। পুকুরের মাছও বন্যার পানিতে বেরিয়ে গেছে। এখন এক কাপড়েই ঘর ছেড়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি গ্রামের এক প্রতিবেশীর পাকা দালানে আশ্রয় নিয়েছেন।

রোববার দুপুরে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে নিজের ভিটায় ফিরেও কোনো অবশিষ্ট পাননি আশা খাতুন। স্বামী আবদুর রাজ্জাককে কয়েক বছর আগে হারানোর পর তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। দুই ছেলে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালালেও, সারা জীবনের জমানো অর্থে তৈরি মাটির ঘরটিই ছিল তাঁদের একমাত্র সম্বল। বর্তমানে চিড়া ও পানি খেয়ে দিন পার করছেন এই পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ায় অনেকেরই ঘরের মালামাল বা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। পশ্চিম কোকদণ্ডী গ্রামের অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা, মাঠ ও পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরের টিনের চালা এখনো পানির ওপরে ভাসছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। ভারী বর্ষণের ফলে ৬ জুলাই থেকে বাঁশখালীর বাহারছড়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, গণ্ডামারা, কাথারিয়া, বৈলছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এলাকা তলিয়ে গেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্দশা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।