ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফিফায় কিংসের অভিযোগ বেড়ে ১৪, নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আবাহনী টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ছেন নটরাজন চন্দ্রশেখরণ বিতর্কিত নওমিকে এশিয়ান গেমসে নারী দলের ম্যানেজার করল বাফুফে ফিলিস্তিন ইস্যু মুছে ফেলতে চায় ইসরাইল: এরদোগান এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, আশ্বস্ত শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সরাসরি দেখবেন যেভাবে বিএনপি অলিগার্ক তোষণের পথে হাঁটছে, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু ১১ অক্টোবর সিডনিতে বসছে চট্টগ্রাম ক্লাবের স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬ সাংবাদিক নুর মোহাম্মদকে হত্যার হুমকি, ইরাব ও বিএসআরএফের তীব্র নিন্দা

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামক একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন গাড়িচালক প্রথম বারে আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বারের প্রবেশপথ আগুনে ঘিরে ফেলায় ভেতরে থাকা মানুষজন আটকা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঞ্চের কাছাকাছি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পীর দাবি অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগার পরপরই বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের পেছনের অংশে থাকা টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনী প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী সুরিন জাইহার্ন অন্তত পাঁচজনকে বের হতে সহায়তা করেছেন। এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চ্যাচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও আসবাবপত্র থাকায় অনেকে বের হতে পারেননি।

থাইল্যান্ডে এর আগেও বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি শহরে ২২ জন এবং ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনার পরও অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামক একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন গাড়িচালক প্রথম বারে আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে বারের প্রবেশপথ আগুনে ঘিরে ফেলায় ভেতরে থাকা মানুষজন আটকা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঞ্চের কাছাকাছি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পীর দাবি অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগার পরপরই বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের পেছনের অংশে থাকা টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনী প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী সুরিন জাইহার্ন অন্তত পাঁচজনকে বের হতে সহায়তা করেছেন। এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চ্যাচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও আসবাবপত্র থাকায় অনেকে বের হতে পারেননি।

থাইল্যান্ডে এর আগেও বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি শহরে ২২ জন এবং ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ৬৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনার পরও অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy