ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে ও আট মাসের ভাতিজিকে আছড়ে হত্যা গুলশানে গ্রেফতার সন্দ্বীপের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি মিতা যশোর প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর জাতিসংঘে বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ নিম্ন আয়ের দেশের ঋণঝুঁকি মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বুধবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি গুলশান বিভাগের নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবীর খান মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল কারাগারে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ফয়সাল

ফেলে দেওয়া খোসায় পুষ্টি ও নতুন স্বাদ পাওয়ার সহজ উপায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকৃতির দেওয়া প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব কার্যকারিতা রয়েছে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার অভ্যাসে আমরা ফল ও সবজির একটি বড় অংশই না বুঝে আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দিই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি কলার ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং কমলার ওজনের ২০ শতাংশই থাকে তার খোসায়। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়ে ল্যান্ডফিলে জমা হয়, যা পচে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস তৈরি করে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা এই ফেলে দেওয়া অংশগুলো রান্নায় ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের পুষ্টির চাহিদাও মেটাতে পারি।

খাদ্যের অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নতুন স্বাদ ও বাড়তি পুষ্টি যোগ করতে খোসার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে খাদ্যশিল্পেও ফেলে দেওয়া খোসার পুষ্টি ও শক্তিকে কাজে লাগানোর আগ্রহ বাড়ছে। ঘরে বসেই এটি করার বেশ কিছু সহজ উপায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো এমন কিছু রেসিপি বেছে নেওয়া, যেখানে ফলের ভেতরের অংশের পাশাপাশি খোসাও ব্যবহার করা যায়; যেমন কলা ও কলার খোসা দিয়ে তৈরি বিশেষ ব্রেড।

আদার খোসা সাধারণত আমরা খাদ্যবর্জ্য হিসেবে ফেলে দিই। অথচ আদার খোসায় রয়েছে সমৃদ্ধ বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ, যার ফাইটোকেমিক্যাল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ক্যানসার প্রভাব। এছাড়াও এটি আঁশ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের একটি ভালো উৎস। আদা ব্যবহারের সময় পিলারের বদলে চা-চামচ দিয়ে খোসা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। রান্নায় খোসাসহ আদা স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যায়। এছাড়া স্যুপের স্বাদ বাড়াতে আদার খোসা ব্যবহার করতে পারেন, তবে ব্লেন্ড করা বা পরিবেশনের আগে তা সরিয়ে নেওয়া ভালো। পানির সঙ্গে ফুটিয়ে আদার ব্রথ তৈরি করে ফ্রিজে রেখে স্মুদি, জুস, ককটেল বা সোডা ওয়াটারে যোগ করা যায়। খোসাগুলো ওভেনে ধীরে ধীরে ভেজে গুঁড়া করে নিলে তা দিয়ে সুস্বাদু আদা-চা কিংবা বেকিং ও রান্নার মসলা তৈরি করা সম্ভব।

মিষ্টিকুমড়া বা যেকোনো ধরনের স্কোয়াশের খোসা এবং বিচি সম্পূর্ণ ভোজ্য ও পুষ্টিকর। এগুলো আঁশ, ভিটামিন এবং বায়োঅ্যাকটিভ উপাদানের চমৎকার উৎস। ব্যবহারের জন্য মিষ্টিকুমড়া ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে ওপর ও নিচের অংশ কেটে বাদ দিতে হবে। এরপর পিলিং নাইফ দিয়ে পাতলা করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। কুমড়াটি লম্বালম্বি কেটে ভেতরের অংশ ও বিচি আলাদা করে রেখে মূল অংশটি দিয়ে তরকারি রান্না করা যাবে। আলাদা করে রাখা বীজগুলো ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বাটিতে বীজ ও খোসা একসঙ্গে নিয়ে লবণ, পাপরিকা, স্মোকড পাপরিকা, জিরা, চিলি ফ্লেক্স এবং সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে মেখে নিতে হবে। এটি এয়ার ফ্রায়ারে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ২০ মিনিট বেক করলে দারুণ কড়মড়ে হয়ে যায়। আর যেসব খোসা বেশি শক্ত, সেগুলো ফ্রিজে জমিয়ে রেখে পরবর্তীতে ভেজিটেবল স্টক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

পেঁয়াজের পাতলা কাগজের মতো খোসাও ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানো সম্ভব। পেঁয়াজের খোসা ওভেনে শুকিয়ে ব্লেন্ড করে পাউডার বা গুঁড়া তৈরি করা যায়। এর স্বাদ আরও বাড়াতে সামান্য লবণ মিশিয়ে সাধারণ মসলা হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করা যায়। পেঁয়াজের খোসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণসম্পন্ন। এছাড়া এতে থাকা ট্যানিন নামক রাসায়নিক উপাদান সুতি ও লিনেন কাপড়ের জন্য প্রাকৃতিক রং হিসেবে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে কাপড় রং করতে প্রথমে একটি পরিষ্কার মোজা গরম পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বড় পাত্রে দুই কাপ পানি ও পেঁয়াজের খোসা দিয়ে ১৫ মিনিট ফোটাতে হবে, যতক্ষণ না পানি গাঢ় লালচে-হলুদ রঙে পরিণত হয়। এবার খোসাগুলো ছেঁকে তুলে নিয়ে মোজাটি সেই গরম তরলে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর না চিপে ঠান্ডা স্থানে শুকিয়ে নিতে হবে। পেঁয়াজের বিভিন্ন জাতের খোসা ব্যবহার করে উজ্জ্বল হলুদ থেকে শুরু করে পাইন গ্রিন রঙও পাওয়া সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেলে দেওয়া খোসায় পুষ্টি ও নতুন স্বাদ পাওয়ার সহজ উপায়

আপডেট সময় : ১০:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতির দেওয়া প্রতিটি উপাদানেরই নিজস্ব কার্যকারিতা রয়েছে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার অভ্যাসে আমরা ফল ও সবজির একটি বড় অংশই না বুঝে আবর্জনার ঝুড়িতে ফেলে দিই। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি কলার ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং কমলার ওজনের ২০ শতাংশই থাকে তার খোসায়। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়ে ল্যান্ডফিলে জমা হয়, যা পচে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস তৈরি করে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা এই ফেলে দেওয়া অংশগুলো রান্নায় ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের পুষ্টির চাহিদাও মেটাতে পারি।

খাদ্যের অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নতুন স্বাদ ও বাড়তি পুষ্টি যোগ করতে খোসার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে খাদ্যশিল্পেও ফেলে দেওয়া খোসার পুষ্টি ও শক্তিকে কাজে লাগানোর আগ্রহ বাড়ছে। ঘরে বসেই এটি করার বেশ কিছু সহজ উপায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো এমন কিছু রেসিপি বেছে নেওয়া, যেখানে ফলের ভেতরের অংশের পাশাপাশি খোসাও ব্যবহার করা যায়; যেমন কলা ও কলার খোসা দিয়ে তৈরি বিশেষ ব্রেড।

আদার খোসা সাধারণত আমরা খাদ্যবর্জ্য হিসেবে ফেলে দিই। অথচ আদার খোসায় রয়েছে সমৃদ্ধ বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ, যার ফাইটোকেমিক্যাল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ক্যানসার প্রভাব। এছাড়াও এটি আঁশ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের একটি ভালো উৎস। আদা ব্যবহারের সময় পিলারের বদলে চা-চামচ দিয়ে খোসা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। রান্নায় খোসাসহ আদা স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যায়। এছাড়া স্যুপের স্বাদ বাড়াতে আদার খোসা ব্যবহার করতে পারেন, তবে ব্লেন্ড করা বা পরিবেশনের আগে তা সরিয়ে নেওয়া ভালো। পানির সঙ্গে ফুটিয়ে আদার ব্রথ তৈরি করে ফ্রিজে রেখে স্মুদি, জুস, ককটেল বা সোডা ওয়াটারে যোগ করা যায়। খোসাগুলো ওভেনে ধীরে ধীরে ভেজে গুঁড়া করে নিলে তা দিয়ে সুস্বাদু আদা-চা কিংবা বেকিং ও রান্নার মসলা তৈরি করা সম্ভব।

মিষ্টিকুমড়া বা যেকোনো ধরনের স্কোয়াশের খোসা এবং বিচি সম্পূর্ণ ভোজ্য ও পুষ্টিকর। এগুলো আঁশ, ভিটামিন এবং বায়োঅ্যাকটিভ উপাদানের চমৎকার উৎস। ব্যবহারের জন্য মিষ্টিকুমড়া ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে ওপর ও নিচের অংশ কেটে বাদ দিতে হবে। এরপর পিলিং নাইফ দিয়ে পাতলা করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। কুমড়াটি লম্বালম্বি কেটে ভেতরের অংশ ও বিচি আলাদা করে রেখে মূল অংশটি দিয়ে তরকারি রান্না করা যাবে। আলাদা করে রাখা বীজগুলো ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বাটিতে বীজ ও খোসা একসঙ্গে নিয়ে লবণ, পাপরিকা, স্মোকড পাপরিকা, জিরা, চিলি ফ্লেক্স এবং সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে মেখে নিতে হবে। এটি এয়ার ফ্রায়ারে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ২০ মিনিট বেক করলে দারুণ কড়মড়ে হয়ে যায়। আর যেসব খোসা বেশি শক্ত, সেগুলো ফ্রিজে জমিয়ে রেখে পরবর্তীতে ভেজিটেবল স্টক তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

পেঁয়াজের পাতলা কাগজের মতো খোসাও ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানো সম্ভব। পেঁয়াজের খোসা ওভেনে শুকিয়ে ব্লেন্ড করে পাউডার বা গুঁড়া তৈরি করা যায়। এর স্বাদ আরও বাড়াতে সামান্য লবণ মিশিয়ে সাধারণ মসলা হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করা যায়। পেঁয়াজের খোসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণসম্পন্ন। এছাড়া এতে থাকা ট্যানিন নামক রাসায়নিক উপাদান সুতি ও লিনেন কাপড়ের জন্য প্রাকৃতিক রং হিসেবে কাজ করে। এই পদ্ধতিতে কাপড় রং করতে প্রথমে একটি পরিষ্কার মোজা গরম পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বড় পাত্রে দুই কাপ পানি ও পেঁয়াজের খোসা দিয়ে ১৫ মিনিট ফোটাতে হবে, যতক্ষণ না পানি গাঢ় লালচে-হলুদ রঙে পরিণত হয়। এবার খোসাগুলো ছেঁকে তুলে নিয়ে মোজাটি সেই গরম তরলে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর না চিপে ঠান্ডা স্থানে শুকিয়ে নিতে হবে। পেঁয়াজের বিভিন্ন জাতের খোসা ব্যবহার করে উজ্জ্বল হলুদ থেকে শুরু করে পাইন গ্রিন রঙও পাওয়া সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin