ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে: শফিকুর রহমান চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে নকলের সুযোগ না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে কার্যকর বিতর্কিত গুন্ডা দমন আইন বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন, মেরিনোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দে লা ফুয়েন্তে জন্মভূমির মুখোমুখি হালান্ড: কেন নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার? রংপুরে ১১ দলের সমাবেশ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ৮ মিয়ানমার নাগরিক আটক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে অর্জন শূন্য, দাবি নাহিদ ইসলামের কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে এক সপ্তাহে ২৬ জনের মৃত্যু

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বহাল আপিল বিভাগে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ও গণভোট বিলুপ্ত করার বিধানগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় এই রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করলেন।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) টানা তিন দিন শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে গণভোট বিলুপ্তসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছিলেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল না করে বাকি বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি এখন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বহাল আপিল বিভাগে

আপডেট সময় : ১১:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
print news

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ও গণভোট বিলুপ্ত করার বিধানগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় এই রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করলেন।

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) টানা তিন দিন শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রায় ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে গণভোট বিলুপ্তসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছিলেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল না করে বাকি বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি এখন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।