ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে নকলের সুযোগ না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে কার্যকর বিতর্কিত গুন্ডা দমন আইন বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন, মেরিনোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দে লা ফুয়েন্তে জন্মভূমির মুখোমুখি হালান্ড: কেন নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার? রংপুরে ১১ দলের সমাবেশ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ৮ মিয়ানমার নাগরিক আটক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে অর্জন শূন্য, দাবি নাহিদ ইসলামের কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে এক সপ্তাহে ২৬ জনের মৃত্যু বন্যা পরিস্থিতির কারণে ১৬ই জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না, এটি কেবল চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব। দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। এছাড়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছর ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ‘জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী’ উল্লেখ করে বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা শোনার পর তিনি ঢামেককে বিশ্বমানের গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না, এটি কেবল চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব। দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। এছাড়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছর ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ‘জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী’ উল্লেখ করে বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা শোনার পর তিনি ঢামেককে বিশ্বমানের গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।