ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এতিমদের অধিকার রক্ষা ও তাদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনাবলী পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে জয় পাকিস্তানের দেবী দুর্গার সাজে নজর কাড়লেন চিত্রনায়িকা পরীমণি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুখোমুখি প্রভাস ও রণবীরের সিনেমা হাসপাতাল ব্যবস্থা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিকাশে মুসলমানদের ঐতিহাসিক অবদান প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হতে পারে: টিআইবি বন্ধ কারখানা চালুর ঋণ বিতরণে মন্দা, বিতরণ মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা আজকের খেলার সূচি: আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ও ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াই প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে ফিরছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না, এটি কেবল চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব। দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। এছাড়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছর ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ‘জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী’ উল্লেখ করে বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা শোনার পর তিনি ঢামেককে বিশ্বমানের গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না, এটি কেবল চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব। দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ বেডের হাসপাতাল রয়েছে, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। তাই বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। তারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। এছাড়া শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বছর ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১.০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ‘জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী’ উল্লেখ করে বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা শোনার পর তিনি ঢামেককে বিশ্বমানের গবেষণা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din