ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্ডিয়া জোটের দেশজুড়ে আন্দোলন: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর 'হাতের পুতুল' আখ্যা দিয়ে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধী 'ইন্ডিয়া জোট'। বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে জোটের নেতাদের এক বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে 'গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযান', যা চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে দেশের সব জেলায় 'গণতন্ত্র বাঁচাও' বিক্ষোভ কর্মসূচি ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যা জেলা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া, ৬ অক্টোবর বিজেপি ছাড়া অন্য সব দলের সংসদ সদস্যরা মিছিল করে নির্বাচন সদনে (নির্বাচন কমিশন ভবন) যাবেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বিশাল সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জানাবেন, কীভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা হচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাঁচটি বড় জনসভার আয়োজন করা হবে, যেখানে জনসাধারণকে ভোট চুরি ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সর্বনাশ কীভাবে করা হচ্ছে, তা বোঝানো হবে।

বুধবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের কাছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্রের সলিল সমাধি ঘটে। তাঁর মতে, 'শাসকের হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমারের জন্য দেশের গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।' তিনি এই আন্দোলন কর্মসূচিতে সব এনজিও, ছাত্রসমাজ এবং যাঁরা ভারতীয় সংবিধান ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাঁদের প্রত্যেককে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের বৈঠকে বেশ সরব ছিলেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করে বলেন, 'ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ভোট লুট করেছে। আমরা কমিশনের কাছে গেছি, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। এখন সবকিছু জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। জ্ঞানেশ কুমার কত বড় চোর, সবাই জেনে গেছে। ভোট চুরির জন্য তিনি ইভিএম পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষা করতে গেলে তাঁকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে।' এ সময় খাড়গে আরও উল্লেখ করেন যে, রাহুল গান্ধী অনেক আগে থেকেই ভোট চুরির অভিযোগ করছিলেন, যা তখন অনেকে গুরুত্ব দেননি। এখন বোঝা যাচ্ছে, সংকট কত গভীর এবং ভোট চুরির কারসাজি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে মোট ৬টি দাবি প্রকাশ করেছেন। দাবিগুলো হলো: ভবিষ্যতে ভোট এসআইআর-পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা অনুযায়ী করতে হবে; এসআইআরে কেন্দ্রওয়ারি ও বুথওয়ারি কাদের নাম বাদ গেছে, কাদের নাম ঢোকানো হয়েছে এবং কী কী সংশোধন হয়েছে, সব দাখিল করতে হবে; প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে পর্যাপ্ত সময়ের নোটিশ দিতে হবে, কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট কারণ দেখাতে হবে এবং আবেদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে; প্রশাসনিক অপদার্থতার দরুন বা ভুলবশত নাম বাদ দেওয়ার হাত থেকে প্রকৃত ভোটারকে রক্ষা করতে হবে; ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ব্যালট প্রথার ভোটে ফিরে আসতে হবে; এবং এমন এক কমিশন গঠন করতে হবে, যা বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বলে সবাই মনে করবে।

খাড়গে জানান, এই লড়াই সব বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং একজোট হয়েই তারা গণতন্ত্রকে বাঁচাবে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আরজি জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাইয়ে আইন অমান্যের ডাক দিয়েছে এবং সারা দেশে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজকের বৈঠকে বিরোধী তিনটি দল—ডিএমকে, আম আদমি পার্টি ও বিজু জনতা দল উপস্থিত ছিল না। তবে ইন্ডিয়া জোটের কারও কারও দাবি, ওই তিন দলের নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা রয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব না এলেও তাঁর দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার দরুন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার আসতে পারেননি, তবে তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে হাজির ছিলেন। শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে ও ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্ডিয়া জোটের দেশজুড়ে আন্দোলন: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর 'হাতের পুতুল' আখ্যা দিয়ে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধী 'ইন্ডিয়া জোট'। বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে জোটের নেতাদের এক বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে 'গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযান', যা চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে দেশের সব জেলায় 'গণতন্ত্র বাঁচাও' বিক্ষোভ কর্মসূচি ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যা জেলা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া, ৬ অক্টোবর বিজেপি ছাড়া অন্য সব দলের সংসদ সদস্যরা মিছিল করে নির্বাচন সদনে (নির্বাচন কমিশন ভবন) যাবেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বিশাল সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জানাবেন, কীভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা হচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে অক্টোবর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাঁচটি বড় জনসভার আয়োজন করা হবে, যেখানে জনসাধারণকে ভোট চুরি ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সর্বনাশ কীভাবে করা হচ্ছে, তা বোঝানো হবে।

বুধবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের কাছে কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্রের সলিল সমাধি ঘটে। তাঁর মতে, 'শাসকের হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমারের জন্য দেশের গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।' তিনি এই আন্দোলন কর্মসূচিতে সব এনজিও, ছাত্রসমাজ এবং যাঁরা ভারতীয় সংবিধান ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাঁদের প্রত্যেককে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের বৈঠকে বেশ সরব ছিলেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করে বলেন, 'ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ভোট লুট করেছে। আমরা কমিশনের কাছে গেছি, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। এখন সবকিছু জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে। জ্ঞানেশ কুমার কত বড় চোর, সবাই জেনে গেছে। ভোট চুরির জন্য তিনি ইভিএম পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্র রক্ষা করতে গেলে তাঁকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে।' এ সময় খাড়গে আরও উল্লেখ করেন যে, রাহুল গান্ধী অনেক আগে থেকেই ভোট চুরির অভিযোগ করছিলেন, যা তখন অনেকে গুরুত্ব দেননি। এখন বোঝা যাচ্ছে, সংকট কত গভীর এবং ভোট চুরির কারসাজি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

মল্লিকার্জুন খাড়গে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে মোট ৬টি দাবি প্রকাশ করেছেন। দাবিগুলো হলো: ভবিষ্যতে ভোট এসআইআর-পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা অনুযায়ী করতে হবে; এসআইআরে কেন্দ্রওয়ারি ও বুথওয়ারি কাদের নাম বাদ গেছে, কাদের নাম ঢোকানো হয়েছে এবং কী কী সংশোধন হয়েছে, সব দাখিল করতে হবে; প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে পর্যাপ্ত সময়ের নোটিশ দিতে হবে, কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট কারণ দেখাতে হবে এবং আবেদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে; প্রশাসনিক অপদার্থতার দরুন বা ভুলবশত নাম বাদ দেওয়ার হাত থেকে প্রকৃত ভোটারকে রক্ষা করতে হবে; ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ব্যালট প্রথার ভোটে ফিরে আসতে হবে; এবং এমন এক কমিশন গঠন করতে হবে, যা বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বলে সবাই মনে করবে।

খাড়গে জানান, এই লড়াই সব বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং একজোট হয়েই তারা গণতন্ত্রকে বাঁচাবে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির আরজি জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাইয়ে আইন অমান্যের ডাক দিয়েছে এবং সারা দেশে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজকের বৈঠকে বিরোধী তিনটি দল—ডিএমকে, আম আদমি পার্টি ও বিজু জনতা দল উপস্থিত ছিল না। তবে ইন্ডিয়া জোটের কারও কারও দাবি, ওই তিন দলের নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা রয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব না এলেও তাঁর দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার দরুন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার আসতে পারেননি, তবে তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে হাজির ছিলেন। শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে ও ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo