ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব? বাড়ছে বৈশ্বিক কৌতুহল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক কৌতুহল ও বিশ্লেষণ। বর্তমানে এই পদের জন্য সাতজন প্রার্থী আলোচনায় থাকলেও, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই। মাত্র তিনজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন মহাসচিব এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন যখন সংস্থাটি বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন ও সংস্কার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের নানা সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতিসংঘের প্রতি এখনো শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে। জিওপোলের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন জাতিসংঘ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষই মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব সামান্য জানেন বা কিছুই জানেন না।

সফল প্রার্থী হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়জনের সমর্থন পেতে হবে। পাশাপাশি ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো দেশ যেন ভেটো না দেয়, তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিচ। তবে এদের কেউই প্রকাশ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করার চাপে প্রার্থীদের অনেক সময় নিরস বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের দৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে। তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্ত।

সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তাকে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর ভেটোর আশঙ্কা মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা দৌড়ে টিকে আছেন। চিলির মিশেল বাচেলেট গত সপ্তাহে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

কে হচ্ছেন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব? বাড়ছে বৈশ্বিক কৌতুহল

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক কৌতুহল ও বিশ্লেষণ। বর্তমানে এই পদের জন্য সাতজন প্রার্থী আলোচনায় থাকলেও, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত তিন দফা গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই। মাত্র তিনজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন মহাসচিব এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন যখন সংস্থাটি বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন ও সংস্কার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের নানা সংঘাতের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতিসংঘের প্রতি এখনো শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে। জিওপোলের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন জাতিসংঘ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে ৮৫ শতাংশ মানুষই মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব সামান্য জানেন বা কিছুই জানেন না।

সফল প্রার্থী হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়জনের সমর্থন পেতে হবে। পাশাপাশি ফ্রান্স, বৃটেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো দেশ যেন ভেটো না দেয়, তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং সার্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিচ। তবে এদের কেউই প্রকাশ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও গণতান্ত্রিক ও উন্মুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ২১টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি পূর্ণ সদস্য। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করছি, এ পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হননি। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাত্র একজন এবং আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে মাত্র দু’জন করে নাগরিক এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করার চাপে প্রার্থীদের অনেক সময় নিরস বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের দৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের অধীনে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিয়ে তাদের আগের সংশয় কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অতিরিক্ত ১৮০ কোটি ডলার মানবিক সহায়তা দেয়নি, সম্প্রতি জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদা বাবদ আরও ৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারও দিয়েছে। তবে এই অর্থও আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটির কাছে যুক্ত।

সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান কিছুটা এগিয়ে থাকলেও তাকে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর ভেটোর আশঙ্কা মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা দৌড়ে টিকে আছেন। চিলির মিশেল বাচেলেট গত সপ্তাহে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার আলোচনার ওপর নির্ভর করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin