হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে দ্বিধায় ট্রাম্প, উভয়সংকটে সৌদি আরব
- আপডেট সময় : ০২:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগ দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে যুদ্ধ করে আসছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সহিংসতা কমে এসেছিল, কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সামরিক লড়াইয়ে সৌদি সহযোগিতা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবুও হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আক্রমণে জড়ানো নিয়ে তিনি বেশ সতর্ক।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান। এর ঠিক আগের দিনই ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছিলেন যে তিনি হুতিদের অবস্থানে হামলার পক্ষে নন। তবে যুবরাজের সঙ্গে কথোপকথনের পর তিনি পেন্টাগনকে বিমান হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত রোববার দুপুরের মধ্যেই ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো মার্কিন বিমান হামলা হচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই পিছু হটার সিদ্ধান্তের পেছনে তার ঘনিষ্ঠ মহলের তীব্র সংশয় কাজ করেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর যে চাপ রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখেই অনেকে এই অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং তারা মিত্রদের রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সামরিক কমান্ডাররা অভিযানের জন্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা চূড়ান্ত করে যুদ্ধবিমানগুলোতে বোমা লোড করার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
২০২৫ সালের বসন্তে, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে এবং বাণিজ্যিক ও মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হুতিদের হামলা বন্ধ করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের ওপর বোমাবর্ষণ করে। এই অভিযান চলাকালে, হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর দায়িত্বে থাকা ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের দুটি ‘এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট’ যুদ্ধবিমান ভুলবশত আমেরিকার মূল বিমানবাহী রণতরি থেকে সাগরে পড়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজের সঙ্গে আলাপকালে জানান, আমেরিকা হুতিদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং হুতিরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে লড়াই না করার বিষয়ে সম্মত রয়েছে। এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য একটি জটিল উভয়সংকট তৈরি করেছে; একদিকে হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা থেকে বিরত থাকলেও তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনকারী বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও কমান্ডারদের মতে, সীমিত মাত্রার মার্কিন অভিযান হুতিদের আলোচনায় বসাতে সক্ষম হবে না। তারা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের ফেলো গ্রেগরি জনসেনের মতে, হুতি-বিরোধী জোটটি মূলত বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর একটি জোড়াতালির সমন্বয়, ফলে তারা হুতিদের সঙ্গে লড়াই করার চেয়ে নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে বেশি সময় পার করে। বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী সৌদিদের সহায়তা করলেও হুতিদের পরাজিত করা কঠিন হবে। এমনকি মানুষকে ‘উধাও করার’ মতো শক্তিশালী ৬০ হাজার বোমা ইসরায়েলকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এই অঞ্চলের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।



























