তীব্র বাজেট সংকটে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন শেকেল দাবি
- আপডেট সময় : ১২:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং লেবানন—এই তিন ফ্রন্টে নিরাপত্তা কার্যক্রম বজায় রাখতে তীব্র অর্থ সংকটে পড়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ চেয়েছে তারা। অন্যথায় এই তিন রণাঙ্গনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বেলা ১১:৪২ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
সেনাবাহিনী আশঙ্কা করছে, প্রয়োজনীয় অর্থ না পেলে নতুন সেনা নিয়োগ, প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভারী সাঁজোয়া যান মেরামতের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমনকি লেবাননে আসন্ন শীতকালীন সামরিক প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয় বলে স্বীকার করেছে তারা।
প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। তবে ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ মনে করেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদামাফিক এই অর্থ রাষ্ট্রীয় বাজেটে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই দেওয়া সম্ভব। ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বরাদ্দ রাখা তহবিল থেকে এই বাড়তি অর্থের সংস্থান করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
চলতি ২০২৬ সালের ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাজেট প্রথমে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল ধরা হয়েছিল। তবে ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযান শুরুর পর তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন শেকেল করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এই বর্ধিত বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে এসে পৌঁছায়নি। সম্প্রতি সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনী বর্তমানে বড় ধরনের বাজেট সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি বড় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এছাড়া ইয়েমেন ও কাতারে হামলা চালানোর পাশাপাশি সিরিয়াতেও প্রায় প্রতিদিন স্থল অভিযান ও কামানের গোলাবর্ষণ করছে ইসরাইলি বাহিনী। কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখা ইসরাইল জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন বা অধিকৃত ভূমি থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।




























