ইইউ ও কানাডার নতুন জোটের প্রস্তাবে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়ায় বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন কানাডার নেতা মার্ক কার্নির ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণের একদিন আগে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এটিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা যদি এটি করে এবং আমি যদি মনে করি এটি কোনোভাবে বৈরী পদক্ষেপ, তবে ইউরোপের ওপর অত্যন্ত কঠোর শুল্ক আরোপ করব অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, উদ্দেশ্য ভালো হলে ঠিক আছে, তবে উদ্দেশ্য খারাপ হলে কঠোর শুল্কই হবে তার প্রতিক্রিয়া।
জার্মান নেতা ফন ডার লিয়েন স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্রগুলো যখন আন্তর্জাতিক নিয়মের ভাঙন দেখছে, তখন ব্রাসেলস ও অটোয়ার আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে কানাডার সঙ্গে গভীর অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেন। তার এই বক্তব্যের পর পার্লামেন্ট কক্ষে উপস্থিত সদস্যরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যযুদ্ধ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে অটোয়া ইইউ'র সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। কার্নির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি বিপজ্জনক ও বিভক্ত বিশ্বে কানাডা আস্থাভাজন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করছে। আগামী মাসে মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনের আগে কার্নির এই সফর সম্পর্ক উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ফন ডার লিয়েনের এই ‘সহযোগী সদস্যপদ’ ধারণাটি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য টোবিয়াস ক্রেমার বলেছেন, এই প্রস্তাবের প্রকৃত অর্থ কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া ইইউ'র নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের বিষয়ে সব সদস্য দেশের অনুমোদন প্রয়োজন, যা পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে। এদিকে, কার্নি সম্প্রতি ব্রিটেন সফর করেছেন এবং নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া সিইটিএ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে প্রায় সব শুল্ক বিলোপ করা হয়। এরপর পণ্য ও সেবার বাণিজ্য ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে চুক্তিটিকে এর কৃতিত্ব দেওয়া হয়।



























