পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি, ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের কথা স্বীকার
- আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্মতির কথা জানান। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, কেবল কথার চেয়ে কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে রণক্ষেত্রে ইউক্রেন অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ধীরগতির অগ্রযাত্রার জন্য রাশিয়াকে ব্যাপক মাশুল দিতে হচ্ছে। তবে রাশিয়ার বিমান হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকটের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ১৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা ধ্বংস করতে ইউক্রেনের অন্তত ২৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে প্রতি মাসে মাত্র ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করাই কিয়েভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তিনি মিত্রদেশগুলোর কাছে আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম চেয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। কিয়েভ চলতি মাসেই শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকের স্থান বা তারিখ নির্ধারণের জন্য এটি খুবই প্রাথমিক পর্যায়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দূরপাল্লার হামলা বৃদ্ধির ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেছেন। চলতি বছর জি-২০ জোটের সভাপতিত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশটির মায়ামিতে এই জোটের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে জি-২০-এর একটি বৈঠকে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ইউক্রেনের কিছু মিত্রদেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহে হিউস্টনে অনুষ্ঠেয় জোটের জ্বালানিবিষয়ক বৈঠকেও মস্কো তাদের কর্মকর্তাদের পাঠাবে বলে জানা গেছে।


























