ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ: ৬৫ থেকে ২১০ টাকা ভারতের উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৬ হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা অগ্রহণযোগ্য, মন্তব্য রাশিয়ার ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় ওসির অবহেলার প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৮ লাখ টাকার সিরিঞ্জসহ নারী যাত্রী আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন আইনমন্ত্রী

ব্রেক্সিট জটিলতায় ২২ বছর পর Sweden থেকে বিতাড়নের মুখে British বৃদ্ধা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক বুক অনিশ্চয়তা ভর করে ৭৮ বছর বয়সী জয়েস থমাসের মনে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, খাবারেও রুচি হারিয়েছেন। জীবনের এই শেষ অপরাহ্নে এসে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিটিশ নার্স। যে সুইডেনে স্বামীর সঙ্গে ২২ বছর আগে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, এখন সেই দেশই তাঁকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া স্বামীর কবর, নিজের ছেলে, নাতি-নাতনি আর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের ফেলে এখন তাঁকে জন্মভূমিতে ফিরে যেতে হবে। আর এর পেছনে রয়েছে ব্রেক্সিট-পরবর্তী একটি আবাসন আবেদনের জটিলতা।

সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পর জয়েস ও তাঁর স্বামীর সুইডেনে বসবাসের জন্য নতুন করে আবেদন করা উচিত ছিল। কিন্তু জয়েস জানিয়েছেন, এমন কোনো আবেদনের নিয়ম রয়েছে তা তাঁরা জানতেনই না। সুইডেনে নিজের বাড়ি থেকে গণমাধ্যমকে জয়েস বলেন, "এটা একেবারে নরকের মতো। আমি ঘুমাতে পারছি না, খেতে পারছি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি না, কী হতে যাচ্ছে।" গত ৮ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর স্বেচ্ছায় সুইডেন ছাড়ার শেষ সময়সীমা।

২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকেরা ইইউর নাগরিক সুবিধা হারান। ফলে আগের মতো বসবাসের অধিকার নিয়ে সুইডেনে থাকা তাঁদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যকার চুক্তির অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার আওতায় ব্রিটিশ নাগরিকেরা সুইডেনে বসবাসের মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারতেন। এই আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। জয়েস ও তাঁর স্বামী তখন আবেদন করেননি। ২০২৩ সালে সুইডেনে ফিরে আসার চেষ্টা করার সময় জয়েস প্রথম জানতে পারেন যে এই আবেদন করা জরুরি ছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর আবেদন ও আপিলের দীর্ঘ আইনি লড়াই।

সুইডেনে নিজের থাকার অধিকার টিকিয়ে রাখতে জয়েস একাধিকবার আবেদন করেছেন এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তবে তাঁর সব আবেদন ও আপিলই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গত মাসে সুইডেনের অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি সংস্থা 'মাইগ্রেশনসভেরকেট' তাঁকে জানিয়ে দেয়, স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সময়সীমা এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর। জয়েসের আইনজীবীরা এই বহিষ্কারাদেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁরা এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। জয়েস আক্ষেপ করে বলেন, "আমি ক্লান্ত, সত্যিই আমি ক্লান্ত। আর আমি তো এখন তরুণ নই। সহানুভূতি কোথায়? আমি এখানে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছি। এখানে আমার বন্ধু আছে, পরিবার আছে।"

জয়েসের এই ঘটনা কোনো একক চিত্র নয়। ব্রেক্সিটের পর সুইডেনে বসবাসকারী বহু ব্রিটিশ নাগরিক একই ধরনের সংকটে পড়েছেন। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেন থেকে ২ হাজার ৪৯০ জন ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইইউর ২৭টি সদস্যদেশ থেকে ওই সময়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুইডেনের বাসিন্দা।

জয়েসের ঘটনা নিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সুইডিশ অভিবাসন সংস্থা মাইগ্রেশনসভেরকেট। বর্তমানে কতজন ব্রিটিশ নাগরিক বহিষ্কারের ঝুঁকিতে আছেন, সে প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি তারা। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫৮ জন ব্রিটিশ নাগরিককে সুইডেন থেকে বহিষ্কার বা জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে আরেকটি পরিবার বিবিসির কাছে অভিযোগ করে যে, তাদের দুই দশকের বেশি সময় ধরে সুইডেনে বসবাসকারী বাবাকেও দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যিনি ডিমেনশিয়া ও ভাসকুলার পারকিনসনিজমে আক্রান্ত হয়ে একটি পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল অবশ্য জানিয়েছেন, বর্তমান নিয়মের এই কাঠামোটি আগের সরকারের আমলে চালু হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার পরিস্থিতিটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, "যাঁরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।" জয়েসের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও মন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে নিয়মগুলো উদারভাবে প্রয়োগ করা উচিত। যুক্তরাজ্যকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় সুইডেনে বসবাস ও কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকেরা যেন এখানেই থাকতে পারেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে জয়েসের নির্বাচনী এলাকার বিরোধী দল 'ভ্যানস্টেরপারিয়েট' (দ্য লেফট পার্টি)-এর আইনপ্রণেতা হোকান সভেনেলিং সরকারের এই অভিবাসননীতিকে 'অমানবিক' বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সুইডেনের আসন্ন নির্বাচন একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হবে এবং বিরোধীরা সরকার গঠন করে এই নীতি পরিবর্তন করবে, যাতে জয়েসের মতো সুইডেনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা ব্রিটিশ নাগরিকেরা এখানে থাকতে পারেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরও বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সুইডিশ কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানায় এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে জয়েসের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যাঁর কাছে সুইডেন ছেড়ে যাওয়া মানে কেবল একটি দেশ বদল নয়, বরং নিজের জীবনের এক বড় অংশকে পেছনে ফেলে যাওয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যদেশে ওই সময়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া ৭ হাজার ৫০০-এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুইডেনপ্রবাসী।.এটা একেবারে নরকের মতো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রেক্সিট জটিলতায় ২২ বছর পর Sweden থেকে বিতাড়নের মুখে British বৃদ্ধা

আপডেট সময় : ০২:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক বুক অনিশ্চয়তা ভর করে ৭৮ বছর বয়সী জয়েস থমাসের মনে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, খাবারেও রুচি হারিয়েছেন। জীবনের এই শেষ অপরাহ্নে এসে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এই ব্রিটিশ নার্স। যে সুইডেনে স্বামীর সঙ্গে ২২ বছর আগে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, এখন সেই দেশই তাঁকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া স্বামীর কবর, নিজের ছেলে, নাতি-নাতনি আর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের ফেলে এখন তাঁকে জন্মভূমিতে ফিরে যেতে হবে। আর এর পেছনে রয়েছে ব্রেক্সিট-পরবর্তী একটি আবাসন আবেদনের জটিলতা।

সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পর জয়েস ও তাঁর স্বামীর সুইডেনে বসবাসের জন্য নতুন করে আবেদন করা উচিত ছিল। কিন্তু জয়েস জানিয়েছেন, এমন কোনো আবেদনের নিয়ম রয়েছে তা তাঁরা জানতেনই না। সুইডেনে নিজের বাড়ি থেকে গণমাধ্যমকে জয়েস বলেন, "এটা একেবারে নরকের মতো। আমি ঘুমাতে পারছি না, খেতে পারছি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি না, কী হতে যাচ্ছে।" গত ৮ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর স্বেচ্ছায় সুইডেন ছাড়ার শেষ সময়সীমা।

২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকেরা ইইউর নাগরিক সুবিধা হারান। ফলে আগের মতো বসবাসের অধিকার নিয়ে সুইডেনে থাকা তাঁদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যকার চুক্তির অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার আওতায় ব্রিটিশ নাগরিকেরা সুইডেনে বসবাসের মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারতেন। এই আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। জয়েস ও তাঁর স্বামী তখন আবেদন করেননি। ২০২৩ সালে সুইডেনে ফিরে আসার চেষ্টা করার সময় জয়েস প্রথম জানতে পারেন যে এই আবেদন করা জরুরি ছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর আবেদন ও আপিলের দীর্ঘ আইনি লড়াই।

সুইডেনে নিজের থাকার অধিকার টিকিয়ে রাখতে জয়েস একাধিকবার আবেদন করেছেন এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তবে তাঁর সব আবেদন ও আপিলই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গত মাসে সুইডেনের অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি সংস্থা 'মাইগ্রেশনসভেরকেট' তাঁকে জানিয়ে দেয়, স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সময়সীমা এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর। জয়েসের আইনজীবীরা এই বহিষ্কারাদেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁরা এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। জয়েস আক্ষেপ করে বলেন, "আমি ক্লান্ত, সত্যিই আমি ক্লান্ত। আর আমি তো এখন তরুণ নই। সহানুভূতি কোথায়? আমি এখানে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছি। এখানে আমার বন্ধু আছে, পরিবার আছে।"

জয়েসের এই ঘটনা কোনো একক চিত্র নয়। ব্রেক্সিটের পর সুইডেনে বসবাসকারী বহু ব্রিটিশ নাগরিক একই ধরনের সংকটে পড়েছেন। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেন থেকে ২ হাজার ৪৯০ জন ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইইউর ২৭টি সদস্যদেশ থেকে ওই সময়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুইডেনের বাসিন্দা।

জয়েসের ঘটনা নিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সুইডিশ অভিবাসন সংস্থা মাইগ্রেশনসভেরকেট। বর্তমানে কতজন ব্রিটিশ নাগরিক বহিষ্কারের ঝুঁকিতে আছেন, সে প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি তারা। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫৮ জন ব্রিটিশ নাগরিককে সুইডেন থেকে বহিষ্কার বা জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে আরেকটি পরিবার বিবিসির কাছে অভিযোগ করে যে, তাদের দুই দশকের বেশি সময় ধরে সুইডেনে বসবাসকারী বাবাকেও দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যিনি ডিমেনশিয়া ও ভাসকুলার পারকিনসনিজমে আক্রান্ত হয়ে একটি পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল অবশ্য জানিয়েছেন, বর্তমান নিয়মের এই কাঠামোটি আগের সরকারের আমলে চালু হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার পরিস্থিতিটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, "যাঁরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।" জয়েসের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও মন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে নিয়মগুলো উদারভাবে প্রয়োগ করা উচিত। যুক্তরাজ্যকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় সুইডেনে বসবাস ও কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকেরা যেন এখানেই থাকতে পারেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে জয়েসের নির্বাচনী এলাকার বিরোধী দল 'ভ্যানস্টেরপারিয়েট' (দ্য লেফট পার্টি)-এর আইনপ্রণেতা হোকান সভেনেলিং সরকারের এই অভিবাসননীতিকে 'অমানবিক' বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সুইডেনের আসন্ন নির্বাচন একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হবে এবং বিরোধীরা সরকার গঠন করে এই নীতি পরিবর্তন করবে, যাতে জয়েসের মতো সুইডেনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা ব্রিটিশ নাগরিকেরা এখানে থাকতে পারেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরও বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সুইডিশ কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানায় এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে জয়েসের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যাঁর কাছে সুইডেন ছেড়ে যাওয়া মানে কেবল একটি দেশ বদল নয়, বরং নিজের জীবনের এক বড় অংশকে পেছনে ফেলে যাওয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যদেশে ওই সময়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া ৭ হাজার ৫০০-এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুইডেনপ্রবাসী।.এটা একেবারে নরকের মতো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo