ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশ অশিক্ষিত ও চাঁদাবাজে ভরে গেছে: ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান এশিয়ান গেমসে চীনের একচেটিয়া দাপট, তলানিতে বাংলাদেশ সরকারকে ভূতে ধরেছে, ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে: ইবি শিবির সেক্রেটারি সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড ও পুলিশের টহল কানেত্তির অনন্য সাহিত্যদর্শন ও কাফকার চিঠির অন্তরাল চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০, মুচলেকায় মুক্তি ৩৫৫ জনের মিরপুরে রাড্ডায় তাণ্ডব: ওসি প্রত্যাহার, নির্দেশদাতারা অধরা যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, সরানো হলো ৮৫ পরিবার শরৎ কাল কবিতা ৩২ দলের অংশগ্রহণে বনানীতে সম্পন্ন হলো বাপাউবো ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট

পাঠ্যবই থেকে ‘ফিলিস্তিন’ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব টনি ব্লেয়ারের, প্রত্যাখ্যান আব্বাসের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফিলিস্তিনের শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবই থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ বা ফিলিস্তিন শব্দটি বাদ দিয়ে সেখানে ইহুদিদের দেওয়া নাম ‘সামারিয়া’ লেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের প্রতিনিধি হয়ে রামাল্লা সফরে গিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছে তিনি এই অদ্ভুত প্রস্তাব উচ্চারণ করেন। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ব্লেয়ারের এই অন্যায্য দাবি সরাসরি ও সাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ‘ডেভিড হার্স্ট পডকাস্ট’-এ দেওয়া এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গ্রিনস্টক জানান, ব্লেয়ার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। শান্তি পর্ষদের হয়ে যুদ্ধোত্তর গাজা ব্যবস্থাপনার তদারকি করতে গিয়ে ব্লেয়ার এখন বেশ জটিলতা ও ঝামেলায় পড়েছেন। গ্রিনস্টক একটি নির্ভরযোগ্য মন্ত্রী পর্যায়ের সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করার মতো যোগ্যতা দেখাতে হলে ফিলিস্তিনের পাঠ্যক্রম থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দ বাদ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

অবশ্য টনি ব্লেয়ারের একজন মুখপাত্র এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। তবে জানা গেছে, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েল সফর করেছিলেন ব্লেয়ার। সেখানে তাঁরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন, যদিও নেতানিয়াহু আগেই ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর এই প্রতিনিধিদলটি কায়রোতে গিয়ে গাজার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট দল এবং হামাসের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করে।

সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক ইরাক যুদ্ধে ব্লেয়ারের ভূমিকা এবং বর্তমানে ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ তাঁর কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০২ (2002) সালের শরতে জাতিসংঘকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য মার্কিন দলকে রাজি করিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার ও ব্রিটিশ দল। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ব্লেয়ারকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, উভয় পক্ষকে সমান মর্যাদা দিয়ে আলোচনা চালানোর মতো নিরপেক্ষ অবস্থানে ব্লেয়ার নেই। ট্রাম্পের গঠিত এই শান্তি পর্ষদকে একটি ‘অবাস্তব ও খামখেয়ালি কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রিনস্টক বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মজবুত ভিত্তি এই পর্ষদের নেই।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ট্রাম্প এই তথাকথিত শান্তি পর্ষদ গঠন করেছিলেন। সে সময় হামাসসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলেও ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরও গাজাজুড়ে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করেছে ইসরায়েল। সম্প্রতি গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ১০ মিনিটে সাতটি বিমান হামলা চালিয়ে ড্রোন দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। সেখানে ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর ইসরায়েলের তৈরি পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ইতিহাস বই ও জাদুঘর থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি মুছে ফেলার ইসরায়েলি তৎপরতার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকেও ‘ফিলিস্তিন’ ও ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের একটি সর্বদলীয় জোট। মিডল ইস্ট আইয়ের এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৪ (2024) সালের অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলপন্থী লবিস্টদের চাপের মুখে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমনকি লেবাননে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রেও প্যালেস্টাইনের জায়গায় ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ ও ‘গাজা উপত্যকা’ লেখার পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা আরও বাড়াতে তদন্ত দল ৫০টি সুপারিশ পেশ করে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য বর্জনের দাবি তোলা সাবেক রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে গ্রিনস্টক অন্যতম।

সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে সতর্ক করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্য যদি মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ন্যায়বিচারের কথা না বলে, তবে দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ পাবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ব্রিটেনে এলে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

গ্রিনস্টকের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর পিতা বেনজিয়ন নেতানিয়াহুকে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী পশ্চিম তীরকে (জুডিয়া ও সামারিয়া) ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অধীনে আনতে চান এবং ৭ অক্টোবরের হামলাকে তিনি সেই উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক শক্তি ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সব শত্রু নিশ্চিহ্ন করার নীতি নিয়ে ইসরায়েল দীর্ঘ মেয়াদে বৈশ্বিক ভাবমূর্তি হারাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির ব্যর্থতা এবং ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতির কারণে আরব মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত মার্কিন শক্তির ওপর আস্থা হারানোর ফলেই নিজেদের স্বনির্ভর করার বার্তা দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পাঠ্যবই থেকে ‘ফিলিস্তিন’ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব টনি ব্লেয়ারের, প্রত্যাখ্যান আব্বাসের

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনের শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবই থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ বা ফিলিস্তিন শব্দটি বাদ দিয়ে সেখানে ইহুদিদের দেওয়া নাম ‘সামারিয়া’ লেখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের প্রতিনিধি হয়ে রামাল্লা সফরে গিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছে তিনি এই অদ্ভুত প্রস্তাব উচ্চারণ করেন। তবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ব্লেয়ারের এই অন্যায্য দাবি সরাসরি ও সাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ‘ডেভিড হার্স্ট পডকাস্ট’-এ দেওয়া এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গ্রিনস্টক জানান, ব্লেয়ার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। শান্তি পর্ষদের হয়ে যুদ্ধোত্তর গাজা ব্যবস্থাপনার তদারকি করতে গিয়ে ব্লেয়ার এখন বেশ জটিলতা ও ঝামেলায় পড়েছেন। গ্রিনস্টক একটি নির্ভরযোগ্য মন্ত্রী পর্যায়ের সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করার মতো যোগ্যতা দেখাতে হলে ফিলিস্তিনের পাঠ্যক্রম থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দ বাদ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

অবশ্য টনি ব্লেয়ারের একজন মুখপাত্র এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট। তবে জানা গেছে, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েল সফর করেছিলেন ব্লেয়ার। সেখানে তাঁরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন, যদিও নেতানিয়াহু আগেই ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর এই প্রতিনিধিদলটি কায়রোতে গিয়ে গাজার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট দল এবং হামাসের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করে।

সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক ইরাক যুদ্ধে ব্লেয়ারের ভূমিকা এবং বর্তমানে ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ তাঁর কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০২ (2002) সালের শরতে জাতিসংঘকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য মার্কিন দলকে রাজি করিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার ও ব্রিটিশ দল। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ব্লেয়ারকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, উভয় পক্ষকে সমান মর্যাদা দিয়ে আলোচনা চালানোর মতো নিরপেক্ষ অবস্থানে ব্লেয়ার নেই। ট্রাম্পের গঠিত এই শান্তি পর্ষদকে একটি ‘অবাস্তব ও খামখেয়ালি কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গ্রিনস্টক বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মজবুত ভিত্তি এই পর্ষদের নেই।

ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ট্রাম্প এই তথাকথিত শান্তি পর্ষদ গঠন করেছিলেন। সে সময় হামাসসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলেও ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরও গাজাজুড়ে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করেছে ইসরায়েল। সম্প্রতি গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ১০ মিনিটে সাতটি বিমান হামলা চালিয়ে ড্রোন দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। সেখানে ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর ইসরায়েলের তৈরি পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ইতিহাস বই ও জাদুঘর থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি মুছে ফেলার ইসরায়েলি তৎপরতার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকেও ‘ফিলিস্তিন’ ও ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের একটি সর্বদলীয় জোট। মিডল ইস্ট আইয়ের এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৪ (2024) সালের অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলপন্থী লবিস্টদের চাপের মুখে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমনকি লেবাননে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রেও প্যালেস্টাইনের জায়গায় ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ ও ‘গাজা উপত্যকা’ লেখার পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা আরও বাড়াতে তদন্ত দল ৫০টি সুপারিশ পেশ করে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য বর্জনের দাবি তোলা সাবেক রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে গ্রিনস্টক অন্যতম।

সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে সতর্ক করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যুক্তরাজ্য যদি মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ন্যায়বিচারের কথা না বলে, তবে দ্বিমুখী নীতি প্রকাশ পাবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ব্রিটেনে এলে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

গ্রিনস্টকের মতে, নেতানিয়াহু তাঁর পিতা বেনজিয়ন নেতানিয়াহুকে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী পশ্চিম তীরকে (জুডিয়া ও সামারিয়া) ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অধীনে আনতে চান এবং ৭ অক্টোবরের হামলাকে তিনি সেই উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক শক্তি ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সব শত্রু নিশ্চিহ্ন করার নীতি নিয়ে ইসরায়েল দীর্ঘ মেয়াদে বৈশ্বিক ভাবমূর্তি হারাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির ব্যর্থতা এবং ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতির কারণে আরব মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত মার্কিন শক্তির ওপর আস্থা হারানোর ফলেই নিজেদের স্বনির্ভর করার বার্তা দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo