হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
- আপডেট সময় : ০৪:০০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর শনিবার সমুদ্রপথে দেশ দুটি পরস্পরের সংশ্লিষ্ট জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা দুটি জাহাজকে 'স্থায়ীভাবে অকার্যকর' এবং ওমান উপসাগরে থাকা আরেকটি জাহাজকে 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হামলার শিকার তিনটি ট্যাংকার আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বড় ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ। এর আগে সেন্টকম জানায়, ইরানের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ—একটি বিমানবাহী রণতরী ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। তবে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, জাহাজ দুটি আইআরজিসির একাধিক হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও মার্কিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ওই ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালিতে 'অননুমোদিত' রুট ব্যবহার করছিল। ভবিষ্যতে এই রুট ব্যবহার না করতে ইরান অন্য জাহাজগুলোকেও সতর্ক করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরিব জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে মার্কিন হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ওমান উপসাগরে আক্রান্ত অপর দুটি ট্যাংকারের ক্রুদের লাইফবোটে করে তীরে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ খালি ছিল এবং অন্যটিতে তেল ছিল। যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা ইরানের জন্য কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে, যদিও ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।
শনিবারের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান মার্কিন জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেবে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে দাবি করেছিলেন। এদিকে, দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই দাবির বিষয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।





























