জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২
- আপডেট সময় : ০২:২৬:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের সরকারি সেবার প্রতিবাদে ফরাসিজুড়ে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের রাজপথে এত বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তুলুজ এবং পশ্চিমাঞ্চলের অঁজে শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মুখে মাস্ক বা কাপড় পরা কিছু লোক সুযোগ নিয়ে লুটপাটের চেষ্টা চালায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা করে এবং রাস্তার বিভিন্ন অবকাঠামোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি সরকারি ক্ষমতার প্রতীকী ভবন ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব তাণ্ডবের জন্য দেশটির সরকার 'অতি-বামপন্থী' গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে পূর্ব-মধ্যাঞ্চলীয় শহর লিওঁতে একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
চলমান এই বড় ধরনের গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত গত মাসে। প্যারিসের দরিদ্র অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় শহরতিলর বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রথম মাঠে নামেন। সেই আন্দোলনই পরবর্তীতে বৈষম্য দূর করা, সরকারি ব্যয় বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার সংকট সমাধানের দাবিতে সর্বাত্মক রূপ নেয়।
প্যারিসের আন্দোলনকারী ১৯ বছর বয়সী লোলা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "আমরা লড়াই করছি। কারণ জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয় হয়ে উঠেছে, জ্বালানির দাম অনেক বেশি। সারা দেশে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিবাদ করতে এবং আরও শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার পরিবেশ চাইতে গিয়ে সহিংস হামলা ও আঘাতের শিকার হচ্ছে।"
শনিবার মধ্য প্যারিসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বিশেষ করে শঁজেলিজে ও আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখতে বিক্ষোভের জন্য অনুমোদিত রুট থেকে সেগুলোকে বাদ রাখা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু মানুষ উজ্জ্বল হলুদ রঙের নিরাপত্তা জ্যাকেট পরে সড়ক অবরোধ করেন, যা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর প্রথম মেয়াদে আলোড়ন তোলা 'ইয়েলো ভেস্ট' বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনে। মার্সেই শহরের মেয়র জানান, সেখানে সিটি হল ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর মার্সেইতে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। এছাড়া বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মিছিলের সামনের সারিতে থাকা প্রায় ১০০ জনের একটি দল পুলিশবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিভাজন এবং অর্থনীতি নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র উদ্বেগের মুখে মাখোঁ সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকা মাখোঁ শুক্রবারই বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। তবে সরকারি ঋণ কমানোর পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের ভরসা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।




























